শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, 'কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাই বেকারত্ব দূর করার অন্যতম পথ।' তিনি বলেন, 'সাধারণ উচ্চশিক্ষা নিয়ে বছরের পর বছর বেকার থাকার চেয়ে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা গ্রহণ করে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা উত্তম।'
শিক্ষামন্ত্রী শুক্রবার রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড আয়োজিত 'আসন্ন ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং পরীক্ষা পরিচালনা বিষয়ে কেন্দ্রসচিবদের করণীয়' শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় একথা বলেন।
দেশের সরকারি-বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসমূহে আগামী ১৬ জুন থেকে শুরু হওয়া ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং পরীক্ষা শেষ হবে আগামী ২৫ জুলাই। এ পরীক্ষায় দেশের সরকারি-বেসরকারি ৪৫৬টি প্রতিষ্ঠানের ১,৯৩,৯১৮ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবে। এর মধ্যে ১,৭২,৫৮২ জন ছাত্র এবং ২১,৩৩৬ জন ছাত্রী।
শিক্ষাসচিব মো: সোহরাব হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অশোক কুমার বিশ্বাস, অতিরিক্ত সচিব ড. অরুনা বিশ্বাস, মো: হেলাল উদ্দিন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড, জীনাত ইমতিয়াজ আলী ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো: মোস্তাফিজুর রহমান বক্তৃতা করেন। কর্মশালায় দেশের সরকারি-বেসরকারি ২৫৮টি পরীক্ষা কেন্দ্রের কেন্দ্রসচিবগণ উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় ও বিশ্বচাহিদার প্রেক্ষিতে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। জাতীয় অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন বা বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত করতে হলে এদেশের নতুন প্রজন্মের অধিকাংশকে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে।
চীন, জাপান, কোরিয়া ও সিঙ্গাপুরসহ উন্নত দেশসমূহে কারিগরি শিক্ষার এনরোলমেন্ট ৬০% এর ওপরে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, '২০২০ সালের মধ্যে আমরা কারিগরি শিক্ষার এনরোলমেন্ট ২০%, ২০৩০ সালের মধ্যে ৩০%-এ উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি। আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্যমাত্রা ৬০%।' তিনি বলেন, 'আমরা কারিগরি শিক্ষার অবকাঠামো, জনবল কাঠামো, শিক্ষাক্রম ও শিক্ষক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় সকল ক্ষেত্রই ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছি।'