শুরুটা পুরান ঢাকার সেন্ট গ্রেগোরিয়ান স্কুল থেকে। সিনিয়রদের খেলা দেখে ভাল লেগে যায়। তারপর একদিন নিজেই নেমে পড়েন মাঠে। পছন্দ থেকে সখ্যতা। এভাবেই জড়িয়ে যান বাস্কেটবলের সাথে। স্কুলের খেলা দেখে পড়ে যান কোচের চোখে। তারপর প্রাকটিসে অংশগ্রহণ। অতঃপর সেন্ট গ্রেগরি স্কুলের হয়ে আন্তঃস্কুল বাস্কেটবলে খেলা। কলেজসহ বিভিন্ন লেভেল পেরিয়ে এখন জাতীয় দলে। বলছি বাংলাদেশ জাতীয় দলের বাস্কেটবল তারকা সাকিবের কথা।
মো. সাকিব হোসাইন। কিন্তু সবাই তাকে চেনেন ‘সাকিব শিকদার’ নামে। লাল-সবুজের জার্সিতে পিঠের উপর লেখা থাকে শিকদার-১৪। জাতীয় দলে খেলায় পাশাপাশি করছেন ক্রীড়া প্রশিক্ষকের চাকরি। তবে তার আরেকটি বড় পরিচয় একজন ‘কৃতী ছাত্র’ হিসেবে। বর্তমানে তিনি ব্যবসায় শিক্ষায় স্নাতক করছেন দেশের অন্যতম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়ার ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে’। যে বাস্কেটবল তাকে পরিচিতি এনে দিয়েছে। সেই বাস্কেটবলের সুবাদেই ঘুরেছেন বেশ কয়েকটি দেশও। ভারত, শ্রীলঙ্কা, চীন প্রভৃতি রাষ্ট্রে প্রতিনিধিত্ব করেছেন বাংলাদেশের। স্বীকৃতি স্বরূপ ঝুলিতে তুলেছেন অসংখ্য পুরস্কার।
শুধু বাস্কেটবলই নয়, খেলেন হ্যান্ডবলও শিকদার। তবে এসবের বাইরে ভাল ছাত্র হিসেবে তার বেশ পরিচয় রয়েছে। ২০১৩ সালে সেন্ট গ্রেগরি হাইস্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষায় পেয়েছেন জিপিএ-৫। এইচএসিতে নটরডেম কলেজ থেকে এ গ্রেড পেয়ে উত্তীর্ণ হয়ে চান্স নিয়েছেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগে। বর্তমানে তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়ন করছেন তিনি।
শিক্ষার্থী ও খেলোয়াড় সাকিবের পরিচয়ে ইতোমধ্যে যোগ হয়েছে ‘ক্রীড়া প্রশিক্ষক’ নামটিও। অতিথি কোচ হিসেবে বিভিন্ন মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও আনসার বাহিনী ক্লাবে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাকিবের প্রিয় খেলোয়াড় কোবে ব্রায়ান্ট। ব্রায়ান্টের খেলা দেখেই উত্সাহ ও ভালবাসা বেড়েছে বাস্কেটবলের প্রতি। ফলে বাস্কেটবলেই ক্যারিয়ার গড়তে চান তিনি। যদিও যথেষ্ট পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে দেশের বাস্কেটবলের ভবিষ্যত্ অনিশ্চিত দেখেন সাকিব। বলেন, ‘বাস্কেটবলকেই ভালোবাসি। তাই এদিকেই ক্যারিয়ার গড়তে চাই। যদিও কিছু সমস্যা রয়েছে তবুও তা কাটিয়ে নিজেকে ভিন্নভাবে প্রমাণ করতে চাই।’ বর্তমানে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যয়নরত থাকায় ক্যাম্পাস টিম ও বিভাগের হয়েও খেলেন।
সাকিবের যত অর্জন: ২০১২ সালে অনূর্ধ্ব-১৮ জাতীয় দলের হয়ে ভারতে অনুষ্ঠিত এশিয়ান বাস্কেটবলে রানার আপ (দল)। ২০১৩ সাথে সেরা খেলোয়াড় হিসেবে ‘গ্রেগোরিয়ান বস্নু’ পুরস্কার। স্কুল টুর্নামেন্টে ৪ বার চ্যাম্পিয়ন (দল)। বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে ২ বার বাস্কেটবল ও একবার হ্যান্ডবল চ্যাম্পিয়ন (দল)। ২০১৩ সালে এশিয়ান ইউথ গেইমসে অধিনায়কত্ব। এছাড়া বিভিন্ন সময় দেশের হয়ে চীন, ভারত, শ্রীলঙ্কা, ভূটান প্রভৃতি রাষ্ট্রে লাল-সবুজের প্রতিনিধিত্ব করে চলেছেন সাবিক শিকদার।