সিঙ্গাপুরে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা আইনে গত এপ্রিলে আটক ছয় বাংলাদেশির বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদে অর্থায়নের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযুক্তরা হলেন মিজানুর রহমান, লিয়াকত আলী মামুন, রুবেল মিয়া, দৌলত জামান, মো. জাবেদ কায়সার হাজি নুরুল ইসলাম সওদাগর ও ইসমাইল হাওলাদার সোহেল। তাদের সকলের বয়স ২৬ থেকে ৩৪ বছরের মধ্যে। তারা সবাই নির্মাণ ও নৌ-শিল্পের ‘ওয়ার্ক পারমিটধারী’ শ্রমিক।
সিঙ্গাপুরের ‘দ্য স্ট্রেইটস টাইমসে’র এক খবরে বলা হয়েছে, গত মার্চ ও এপ্রিলে জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে আট বাংলাদেশিকে আটক করে পুলিশ। তারা ‘ইসলামিক স্টেট ইন বাংলাদেশ’ (আইএসবি) নামে একটি গোপন গোষ্ঠীর সদস্য বলে সিঙ্গাপুরের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়। এসব বাংলাদেশি দেশে ফিরে নির্বাচিত সরকারকে সশস্ত্র পন্থায় উত্খাত করে একটি ইসলামিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করেছিলো। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসের সমর্থক এই ‘জঙ্গিদের’ কাছ থেকে একটি হিটলিস্টও উদ্ধার করা হয়েছে। এই হিটলিস্টে ‘বাংলাদেশের পুলিশ, র্যাব, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, বিজিবি, মন্ত্রী, এমপি, সাংবাদিক ও সংখ্যালঘু’ উল্লেখ করা রয়েছে। অস্ত্র ব্যবহার ও বোমা তৈরির পদ্ধতি সংক্রান্ত দলিলপত্র এবং উগ্রপন্থি বইপত্রও পাওয়া যায় তাদের কাছে।
শুক্রবার এদের মধ্যে ছয়জনের বিরুদ্ধে জঙ্গি অর্থায়ন বা অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ আনা হয়েছে। দুপুরে কড়া পাহারার মধ্যে আর্মড ট্রাকে করে তাদের আলাদা গাড়িতে আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযুক্তদের মধ্যে মিজানুর রহমান নামের ব্যক্তিকে মূল হোতা বলে দাবি করছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। অভিযুক্তদের মধ্যে রুবেল মিয়া ও মো. জাবেদ কায়সারের বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদে অর্থ সহায়তা দেওয়ার জন্য সম্পত্তি দখলে রাখার অভিযোগও আনা হয়েছে।
আটক ছয়জনের মধ্যে পাঁচজনই দোষ স্বীকার করতে রাজি হয়েছেন। আগামী ৩১ মে আদালতের পরবর্তী শুনানির দিন তারা এই স্বীকারোক্তি দেবেন বলে মনে করা হচ্ছে। তবে লিয়াকত আলী মামুন তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সিঙ্গাপুর পুলিশের এক মুখপাত্র গতকাল বলেন, দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা আইনে প্রথমবারের মতো বিচার হতে চলেছে। যুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১ হামলা ও সিঙ্গাপুরে সন্ত্রাসী হামলা প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর দেশটির সরকার ২০০২ সালে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা আইনটি পাস করে।
তিনি আরো জানান, বাণিজ্য বিষয়ক দপ্তর এই ছয়জনের বিষয়ে এপ্রিল থেকে তদন্ত করছে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন ও সহযোগিতার বিষয়টি খুবই গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে থাকে সিঙ্গাপুরের সরকার। সিঙ্গাপুরে থেকে যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করবে সরকার অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
প্রসঙ্গত, গত জানুয়ারিতে জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে সিঙ্গাপুরে আটক ২৬ বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। চলতি মাসের শুরুর দিকে আরো পাঁচজনকে ফেরত পাঠায় দেশটি। একইসঙ্গে আটজনকে আটক রাখার কথা জানায় তারা।