ভোলার মেয়ে শিরীন শবনম দেশসেরা প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (পিটিআই) সুপারিনটেনডেন্ট হয়ে প্রাথমিক শিক্ষা পদক লাভ করেছেন। সম্প্রতি বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘শ্রেষ্ঠ সুপারিনটেনডেন্ট’ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে তিনি এ শিক্ষা পদক গ্রহণ করেন।
শিরীন শবনম ভোলার ঐতিহ্যবাহী মাসুমা খাতুন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক সর্বজন শ্রদ্ধেয় আবদুর রশিদ স্যারের ৭ সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয়। লেখাপড়ায় অত্যন্ত মেধাবী শিরীন শবনম ১৯৯২ সালে এসএসসি পরীক্ষায় যশোর শিক্ষা বোর্ড থেকে মানবিক বিভাগে সম্মিলিত মেধা তালিকায় ১৮তম আর মেয়েদের মধ্যে ৫ম স্থান লাভ করেন। ১৯৯৪ সালে একই বোর্ড থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় মেয়েদের মধ্যে ১০ স্থান অধিকার করেন। ২০০১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসএস ডিগ্রি লাভ করেন বেগম রোকেয়া হলের আবাসিক এ ছাত্রী। এরপর ভোলা শহরের ওবায়দুল হক কলেজে ২০০২ সালে সমাজকল্যাণ বিভাগের প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। ২০০৬ সালে ভোলা প্রাইমারি টিচার্স টেনিং ইনস্টিটিউট (পিটিআই) এর সহকারী সুপার পদে যোগদান করেন এবং ২০১১ সালে সুপারিনটেনডেন্ট পদে পদোন্নতি লাভ করেন।
‘প্রাথমিক শিক্ষা বিস্তারে অনন্য ভূমিকা’ রাখায় ২০১৮ সালের ‘শ্রেষ্ঠ সুপারিনটেনডেন্ট’ হিসেবে তাকে ‘প্রাথমিক শিক্ষা’ পদক এর জন্য তাকে মনোনীত করা হয়। জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গত বুধবার (১৩ মার্চ) বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘শ্রেষ্ঠ সুপারিনটেনডেন্ট’ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার হাতে এ শিক্ষা পদক প্রদান করেন। তিনিসহ দেশের বিভিন্ন জেলার ১৯ জন কর্মকর্তা বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে এ পুরস্কার পেয়েছেন। শিরীন শবনম চৌধুরী ২০১১ সালে ভোলা প্রাইমারি টিচার্স টেনিং ইনস্টিটিউট (পিটিআই) এর সুপারিনটেনডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দক্ষতার সঙ্গে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন।
প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষা ও শিক্ষকদের মানোন্নয়নে তিনি বিশেষ ভূমিকা পালন করে আসছেন। টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের সকল প্রশিক্ষণার্থী শিক্ষকের নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে একজন দক্ষ শিক্ষক হিসেবে গড়ে তুলছেন।
এ ছাড়াও তিনি ভোলা পিটিআইতে যোগদান করে পিটিআই দুর্বল অবকাঠামোকে নতুন করে আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণে উদ্যোগ নেন এবং বাস্তবায়ন করেন।
নারী শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব বিকাশের জন্য তাদের দায়িত্ব কর্তব্য অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা, বাল্যবিবাহ যৌতুকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য উদ্বুদ্ধ করে থাকেন। নিজ অর্থ ব্যয়ে গরিব মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সময়ে সাহায্য-সহযোগিতা করে থাকেন। পিটিআইয়ের শিক্ষার্থীদের রক্তের গ্রুপ শনাক্ত করে গরিব রোগীদের রক্তদানে উত্সাহিত করে আসছেন।
ইত্তেফাকের কাছে তার প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, অভিলাষ থেকে নয়, শিক্ষা ও শিক্ষকদের প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকেই তিনি ভোলা পিটিআইকে আদর্শ পিটিআই হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করে আসছেন। তার প্রত্যাশা পিটিআই থেকে প্রশিক্ষিত সব শিক্ষক দেশাত্মবোধে উজ্জীবিত হয়ে প্রশিক্ষণ লব্ধ জ্ঞান প্রয়োগ করে প্রাণবন্ত শ্রেণিপাঠ নিশ্চিত করবেন। তিনি মনে করেন আন্তরিক প্রয়াসই হচ্ছে সীমাবদ্ধতাকে জয় করার একমাত্র হাতিয়ার।