‘জীবনে কিছু করার ইচ্ছাশক্তি থাকতে হবে’

 

ভবিষেতর কথা মাথায় রেখে আর বর্তমানকে প্রাধান্য দিয়ে আগামীর বাংলাদেশকে বিনির্মাণ করার কথা ভাবেন তিনি। বলা হয়ে থাকে বাংলাদেশে আধুনিক মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা এসেছে তার হাত ধরে। তিনি কাজী রাকিবুদ্দিন আহমেদ। আজ জানব তার এই পথ পাড়ি দেওয়ার গল্প। লিখেছেন মাইনুল হোসাইন

 

বেড়ে ওঠার গল্প

আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকাতেই। আমার পড়াশোনা ছিল ওয়েস্ট অ্যান্ড হাই স্কুুল এবং নটরডেম কলেজে। এরপর সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে পাড়ি জমাই যুক্তরাষ্ট্রে। তবে একসময় মনে হয় আসলে আমি প্রকৌশল বিদ্যার জন্য তৈরি হইনি। তারপর প্রায় তিন বছর প্রকৌশল বিদ্যা নিয়ে পড়ার পর ইউনিভার্সিটি অব কেন্টাকিতে আমি মানবসম্পদ নিয়ে অধ্যয়ন করি।

ক্যারিয়ার

কেন্টাকিতে কলেজ অব বিজনেসে অধ্যাপনার মাধ্যমে আমার চাকরিজীবন শুরু। এরপর পেপসি-কোলাতে শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করেছি। প্রায় তিন বছর পিজ্জাহাটে কর্পোরেট ম্যানেজমেন্টে কাজ করার পর নব্বই দশকের শেষে প্রায় বিশ বছর পর বাংলাদেশে ফিরে আসি এবং মানবসম্পদ নিয়ে কাজ করতে শুরু করি। ধারাবাহিকভাবে ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো বাংলাদেশ, ইউনিলিভার বাংলাদেশ, সানোফী ফার্মা, প্যানপেসিফিক সোনারগাঁও হোটেল, ডিবিএল গ্রুপ ও আনোয়ার গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রিজের পর বর্তমানে কাফকোতে হেড অব হিউম্যান রিসোর্স ডিপার্টমেন্টে দায়িত্ব পালন করছি।

দেশের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নে আপনার কর্মকাণ্ড সম্পর্কে

বাংলাদেশে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নে বরাবরই আমি সচেষ্ট ছিলাম। প্রায় ২৫ বছর ধরে আমি ও আমার টিম এই বিষয়ে শ্রম দিয়ে যাচ্ছি। আরও কিভাবে এই সেক্টরকে আধুনিকায়ন করা যায় সে চিন্তাভাবনা করছি। সর্বপ্রথম আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে আমার হাত ধরে বেশ কিছু তরুণ-তরুণী মানবসম্পদ বিষয় নিয়ে কাজ করতে শুরু করে। আধুনিক মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা মানুষকে সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ মূলধন হিসেব বিবেচনা করে এবং তার সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমেই একটি কোম্পানি অধিক মুনাফা অর্জন করতে সক্ষম হয়। ইন্টারভিউ বোর্ড থেকেই একজন চাকরীপ্রার্থীর সেই কোম্পানির প্রতি একটি ধারণা জন্মায়। আমাদের অনেক কোম্পানির মালিকপক্ষ ইন্টারভিউতে চাকরিপ্রার্থীকে অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করেন, এমন কি অসম্মানসূচক মন্তব্য করেন যদি উত্তর তার মনমতো না হয়। অন্যদিক মেধাবী ও দক্ষ কর্মীরা বহুজাতিক কোম্পানিকে তাদের পছন্দের তালিতায় প্রথমে রাখেন। আমি এসব চিন্তা করে অনেকদিন গবেষণা করে একটি ফর্মুলা আবিষ্কার করেছি, যা বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক আমার নামে প্যাটেন্টকৃত। যাকে রাকিব’স রিক্রুটম্যান্ট রুল বলা হয়। আমি একমাত্র বাংলাদেশি যাকে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে আধুনিক মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায়। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত, চতুর্থ শিল্প বিপ্লব আমাদের ধাক্কা দেওয়ার আগেই যেন আমরা মেধা ও দক্ষতা দিয়ে তা মোকাবিলা করতে পারি। আর সেই সঠিক কাজটি করতে পারবে মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রণালয়। আর তাই সাপ্লাই ও ডিমান্ড—এ দুটো দিকের সঠিক মূল্যায়ন, সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ও প্রয়োগের জন্য মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রণালয় গঠনের কোনো বিকল্প নেই।

দেশের তরুণদের জন্য পরামর্শ

তরুণদের জন্য আমার শুধু উপদেশ নয়, অনুরোধ থাকবে—জীবনে প্রত্যেকের অনেস্ট ভিশন বা স্বপ্ন থাকতে হবে। যেমন আমি স্বপ্ন দেখেছিলাম একজন প্রকৌশলী হওয়ার, কিন্তু আমি বর্তমানে একজন মানবসম্পদ বিশেষজ্ঞ। তাই তরুণদের বলব জীবনে কিছু করার ইচ্ছাশক্তি থাকতে হবে। আমরা বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান বা কোনো উদ্যোগে প্রথম পদক্ষেপ নিতে দেখি তরুণদের এবং তাদের চিন্তাভাবনা সত্যিই অসাধারণ। তাই তাদের উদ্দেশে বলব, শুধু পুঁথিগত বিদ্যার পিছনে পড়ে না থেকে কিভাবে নিজের মাঝে সৃজনশীলতা নিয়ে আসা যায় সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে হবে।