কক্সবাজারের রামু উপজেলার ৫ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার ভরাডুবি হয়েছে। এরমধ্যে ৪ ইউনিয়নে জয়লাভ করেছেন আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা। একটিতে বিএনপি প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। শনিবার (২৮ মে) রাত ১০ টার দিকে সহকারী রিটার্ণিং অফিসার রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেগম সেলিনা কাজী এ ফলাফল ঘোষণা করেন।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসীল অনুযায়ী ৫ম দফায় রামু উপজেলার কাউয়ারখোপ, গর্জনিয়া, কচ্ছপিয়া, ঈদগড় ও রশিদ নগর ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মাত্র ২৬ ভোট বেশী পেয়ে বেসরকারী ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আবু ইসমাইল মোহাম্মদ নোমান। তার প্রাপ্ত ভোট ৩৯৮২। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামীলীগ বিদ্রোহী প্রার্থী আনারস প্রতীকে জাকের আহাম্মদ পেয়েছেন ৩৯৫৬ ভোট। নৌকা প্রতীকে বর্তমান চেয়ারম্যান নুরুল আমিন পেয়েছেন ৩৪৭৭ ভোট।
কাউয়ারখোপে ঘোড়া বিদ্রোহী আওয়ামীলীগ বিদ্রোহী মোস্তাক আহাম্মদ ৪১৮২ ভোট পেয়ে বেসরকারী ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। ধানের শীষ প্রতীকে বর্তমান চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা নুরুল হক পেয়েছেন ৩৫৪০ ভোট। নৌকা প্রতীকে শফি উল্লাহ পেয়েছেন ১৪৮৬ ভোট।
রশিদ নগর ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ বিদ্রোহী শাহ আলম আনারস প্রতীকে ২৪৫০ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল করিম ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১৮৫৫ ভোট। ঘোড়া প্রতীকে সিরাজুল ইসলাম পেয়েছেন ১৭৪৪। আওয়ামীলীগ এর বজল আহাম্মদ বাবুল নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ১৫৪৪।
গর্জনিয়ায় আওয়ামীলীগ বিদ্রোহী সৈয়জ নজরুল ইসলাম চৌধুরী আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৪৯৫৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী বিএনপির গোলাম মওলা ধানের শীষ প্রতীকে ৩০৯৮ ভোট পেয়েছেন। নৌকা প্রতীকে বর্তমান চেয়ারম্যান তৈয়ব উল্লাহ চৌধুরী পেয়েছেন ১৯৪৭ ভোট।
ঈদগড়ে আওয়ামীলীগ বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান ফিরোজ আহাম্মদ ভুট্টো ৩০৬৪ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম বিএনপি প্রার্থী নুরুল আজিম ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ২৯৬৫ ভোট। নৌকা প্রতীকে মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম বাঙ্গালী পেয়েছেন ২০১৭ ভোট।
এদিকে, এর আগে শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত উপজেলার কাউয়ারখোপ, গর্জনিয়া, কচ্ছপিয়া, ঈদগড় ও রশিদ নগর ইউনিয়নে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। দু’একটি কেন্দ্রে বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। তবে নির্বাচনী কেন্দ্রলোতে বড় কোন সহিংসতা হয়নি।
অন্যদিকে, ৫ ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকে আওয়ামীলীগ মনোনীত কোন প্রার্থীই জয় লাভ করতে পারেনি।