গাইবান্ধায় জামাইকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় শ্বশুর বাড়িতে আসার পর আশরাফুল ইসলাম (৩২) নামে এক জামাইকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ওই বাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে।
 
সোমবার গভীর রাতে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের বালুয়া তালপট্টি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 
 
খবর পেয়ে সোমবার দুপুরে সাঘাটা উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের একটি গাছ থেকে আশরাফুলের ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
 
আশরাফুল ইসলাম গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রাখালবুরুজ ইউনিয়নের গাজীপাড়া গ্রামের মমতাজ উদ্দিন ব্যাপারীর ছেলে। 
 
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ জানান, পাঁচ/ছয় বছর আগে তালপট্টি গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের মেয়ে মফেলা বেগমকে বিয়ে করেন আশরাফুল ইসলাম। সংসারে তার একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। এদিকে তাদের পরিবারে কলহ থাকায় মফেলা বেগম অন্য ছেলের সঙ্গে পালিয়ে বিয়ে করেন। কিন্তু তারপরেও আশরাফুল মফেলা বেগমকে নিয়ে সংসার করতে চায়। 
 
এদিকে এ নিয়ে আশরাফুল তার শ্বশুর-শাশুড়ি ও ভায়রার সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। গত দুই/তিন দিন আগে আশরাফুলকে শ্বশুর বাড়িতে ডেকে আনেন তার ভায়রা। রবিবার রাতে যে কোন সময় শ্বশুর বাড়ির লোকজন আশরাফুলকে বেদমভাবে মারপিট করে হত্যা করে। এরপর তারা আরাফুলের মরদেহ পাশের গ্রামের একটি গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে। সোমবার সকালে আশরাফুলের মরদেহ ঝুলতে দেখে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা। 
 
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া তার মুখ দিয়ে রক্ত পড়ছিল। মারপিট করে তাকে হত্যার পর মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতের মরদেহ সাঘাটা উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের রামনগর গ্রামে পাওয়া যায়। সে কারণে সাঘাটা থানা পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। 
 
সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজার রহমান জানান, এ ঘটনায় সাঘাটা থানায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।