ইউনূস সেন্টার আয়োজিত ২৬২তম সামাজিক ব্যবসা ডিজাইন ল্যাবে নবীন উদ্যোক্তাদের ব্যবসার সংখ্যা ৫,০০০ -এর মাইল ফলক অতিক্রম করলো। সোমবার ইউনূস সেন্টারে এই ডিজাইন ল্যাব অনুষ্ঠিত হয়। নবীন উদ্যোক্তা প্রকল্পে বিনিয়োগকারী চারটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে গ্রামীণ টেলিকম ট্রাস্টের নবীন উদ্যোক্তা প্রকল্পে বিনিয়োগের সংখ্যা ২,০০০ ছাড়ালো।
ভারত, ইতালি, কানাডা ও অন্যান্য দেশ থেকে আগত বহু বিদেশী অভ্যাগতসহ বিভিন্ন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায় থেকে ১২০ জনেরও বেশী অংশগ্রহণকারী এই ল্যাবে যোগ দেন। কানাডার প্রখ্যাত কুইন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকগণ অদ্যকার ডিজাইন ল্যাবে অংশ নেন যারা বাংলাদেশের প্রতিবন্ধী তরুণ-তরুণীদের জন্য “নবীন উদ্যোক্তা” জাতীয় কর্মসূচির সম্ভাবনা যাচাইয়ে আগ্রহী।
নোবেল লরিয়েট প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস ডিজাইন ল্যাবে সভাপতিত্ব করেন। তিনি উপস্থিত দর্শক ও অংশগ্রহণকারীদের স্বাগত জানান এবং বলেন যে, জানুয়ারি ২০১৩-এ ল্যাব শুরু হবার পর এ পর্যন্ত ৫,৬৭৪টি প্রকল্প ডিজাইন ল্যাবে সামাজিক ব্যবসা তহবিল থেকে বিনিয়োগের জন্য অনুমোদিত হয়েছে।
IMG0
জাইন ল্যাবে ৬টি নতুন “নবীন উদ্যোক্তা” ব্যবসা পরিকল্পনা উপস্থাপিত হয়। উপস্থাপিত ব্যবসাগুলোর উদ্যোক্তাদের সকলেই গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণগ্রহীতা পরিবার থেকে আগত। উপস্থাপিত ব্যবসাগুলোর মধ্যে রয়েছে রুমি মল্লিকের “মিতালী টেইলার্স”, রঞ্জন চন্দ্র সুত্রধরের “প্রিয়ন্ত নার্সারি”, মোসাঃ পারভিনের “ইতি জামদানী হাউস”, মোসাঃ আসমা বেগমের “সলিম পাখা শিল্প”, মোঃ রুহুল আমিনের “টুম্পা রাইস মিল” এবং আসমা বেগমের “বধুয়া বিউটি পার্লার”।
নবীন উদ্যোক্তারা প্রত্যেকেই প্রকল্প পরিকল্পনা, বাজারজাত পরিকল্পনা ও আত্ম-নির্ভরতা পরিকল্পনা সহ তাঁদের নিজ নিজ ব্যবসায়িক পরিকল্পনা বিস্তারিত উপস্থাপন করেন। এরপর প্রকল্পগুলো নিয়ে দলীয়ভাবে বিশদ আলোচনা হয়। উপস্থাপিত সবগুলো প্রকল্পই অর্থায়নের জন্য অনুমোদিত হয়। সামাজিক ব্যবসা তহবিলের সাথে যৌথ-মূলধনী ব্যবসা হিসেবে পরিচালিত এই সামাজিক ব্যবসা প্রকল্পগুলো সোশ্যাল বিজনেস পিডিয়ায় প্রতিবেদনের মাধ্যমে মনিটর করা হবে।
এছাড়াও ২৬২তম সামাজিক ব্যবসা ডিজাইন ল্যাবে গ্রামীণ টেলিকম ট্রাস্ট ও এসডিআরএস-এর মধ্যে গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়িতে “কিশলয় স্কুল” নামে একটি উন্মুক্ত সামাজিক ব্যবসা প্রকল্প বিষয়ে একটি জয়েন্ট ভেঞ্চার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির অধীনে গ্রামীণ টেলিকম ট্রাস্ট ঐ এলাকায় ছাত্র-ছাত্রীদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা নির্বিশেষে সকলের জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান একটি স্কুলকে সামাজিক ব্যবসা প্রকল্পে পরিণত করতে সহায়তা করবে।
ডিজাইন ল্যাব শেষে অধ্যাপক ইউনূস ২৮-২৯ জুলাই ২০১৬ তারিখে ঢাকার অদূরে জিরাবো-তে নব নির্মিত “সামাজিক ব্যবসা কনভেনশন সেন্টারে” অনুষ্ঠেয় “সামাজিক ব্যবসা দিবসে” অংশগ্রহণের জন্য উপস্থিত সকলকে আমন্ত্রণ জানান।