বাংলাদেশে নির্বাচনী সহিংসতায় খ্রিস্টান নেতাদের আতঙ্ক

 
বাংলাদেশে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রায় ৯৬ জনের মৃত্যু ও কয়েক হাজার মানুষ আহত হওয়ায় শোক প্রকাশ করেছে একজন ক্যাথলিক বিশপসহ খ্রিস্টান সমাজের নেতারা। এ সময় তারা নির্বাচনী সহিংসতায় খ্রিস্টান সমাজ আতঙ্কিত রয়েছে বলে জানায়।
 
এ বছর ৬ ধাপের নির্বাচনে ৯৬ জনের মৃত্যুসহ ৫ হাজারের বেশি মানুষ আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এ বিষয়ের কথা উল্লেখ করে খ্রিস্টান নেতারা বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচাইতে রক্তক্ষয়ী নির্বাচন ছিল এটি।
 
ষষ্ঠ ধাপের নির্বাচন শুরু হবে ৪ জুন। নির্বাচনের এই শেষ ধাপও সহিংসতার আশঙ্কা প্রকাশ করে বিশপ গর্ভেস রোজারিও জানান, রাজনৈতিক দলের অধীনে স্থানীয় নির্বাচন করা 'বড় ধরণের ভুল' ছিল। তিনি আরো বলেন, অতীতে গ্রামের মানুষের মধ্যে বিভেদ ছিল না। কিন্তু এই নির্বাচনের মাধ্যমে গ্রামের মানুষকে রাজনৈতিকভাবে বিভাজিত করা হয়েছে। এ কারণেই সহিংসতা বেড়েছে। ব্যক্তিগত লাভের জন্য এখন প্রার্থীরা নির্বাচনে দাঁড়িয়েছে, মানুষের সেবা করার জন্য নয়।
 
তিনি আরো বলেন, নির্বাচনে অর্থ ও বাহুবল প্রাধান্য পাচ্ছে এবং দুর্বল ও সংখ্যালঘুরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সহিংসতার রূপ দেখলে বোঝা যায় সেখানে সভ্যতা ও গণতান্ত্রিক আচরণের ঘাটতি রয়েছে। ফলে শান্তি ও সমাজ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
 
বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি নির্মল রোজারিও বলেন, 'বাজে রাজনৈতিক সংস্কৃতির' কারণে নির্বাচনে মৃত্যু ও সহিংসতার হার বেড়েছে। বিরক্তিকর রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য বর্তমানে এই অবস্থা। এখন অর্থের শক্তিকে বড় করে দেখা হচ্ছে। পূর্বে আত্মত্যাগী মানুষ রাজনীতিতে যোগ দিত। কিন্তু বর্তমানে অর্থ ও পেশির জোরে রাজনীতি চর্চা হয়।
 
এদিকে মনিটরিং গ্রুপের সেক্রেটারি বাইদুল ইসলাম বলেন, সরকারের অনুধাবন করা উচিত, সহিংসতায় পূর্ণ এই নির্বাচন ভবিষ্যতে সমাজে বড় ধরণের অশান্তি নিয়ে আসবে। তিনি আরো বলেন, রাজনৈতিক ব্যবস্থার ব্যর্থতার জন্যই আফগানিস্তানে তালেবানদের উত্থান হয়েছিল। বাংলাদেশেও একই ঘটনা ঘটতে পারে। ইউসিএনিউজ ডটকম।