ডাকাতি ও হত্যা মামলায় ১০ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ

আশুলিয়ায় ব্যাংক ডাকাতির ঘটনায় ছয়জনের এবং শিশু হত্যার দায়ে নেত্রকোনায় তিনজনের ও বরগুনায় একজনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর-
 
ঢাকা : সাভারের আশুলিয়ায় কাঠগড়া বাজারে ব্যাংক ডাকাতি ও আটজনকে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় ছয়জনের ফাঁসির আদেশ ও একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছে আদালত। ১১ আসামির মধ্যে দুইজনের তিনবছর কারাদণ্ড ও জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া দুইজনকে খালাস দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ এসএম কুদ্দুস জামানের আদালত এই আদেশ দেয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- বোরহান উদ্দিন, সাইফুল ওরফে আল আমিন, মাহফুজুল ইসলাম ওরফে সুমন ওরফে জামিল, জসিমউদ্দিন, মিন্টু প্রধান ও পলাশ ওরফে সোহেল রানা। এর মধ্যে মাহফুজুল আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা। এছাড়া মিন্টু প্রধান বাদে বাকিরা জেএমবির সদস্য। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত উকিল হাসানকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে দুই মাসের কারাদণ্ডের আদেশ হয়েছে। এছাড়া আব্দুল বাতেন ও শাহজাহান জমাদারের তিন বছর কারাদণ্ড এবং তিন হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা না দিলে আরও এক মাস কারাভোগ করতে হবে তাদের। মামলায় খালাস পেয়েছেন বাবুল সরদার ও মোজাম্মেল হক। গত বছর ২১ এপ্রিল সাভারের আশুলিয়ার কাঠগড়া বাজারে কমার্স ব্যাংকের শাখা কার্যালয়ে হানা দেয় ডাকাত দল। এ সময় তাদের ছোড়া গুলিতে ব্যাংকের ঐ শাখার ব্যবস্থাপকসহ আটজন নিহত হন।
 
নেত্রকোনা : নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার চিটুয়া নওপাড়া গ্রামের মো. ফারুক ভুইয়ার শিশু ছেলে শুক্কুর আলীকে (১২) অপহরণের পর হত্যার দায়ে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর একটায় নেত্রকোনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ড. একেএম আবুল কাশেম এ রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, উপজেলার চিটুয়া নওপাড়া গ্রামের শামীম খান (২০), মো. সোহাগ এবং তারাকান্দি রাজিবপুর গ্রামের হুমায়ুন। এদের মধ্যে হুমায়ুন পলাতক রয়েছে।
 
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সনের ৯ জুন বিকালে ফারুকের ছেলে শুক্কুর আলী মায়ের জন্য বাজারে ওষুধ আনতে গেলে দণ্ডপ্রাপ্তরা শুক্কুর আলীকে অপহরণ করে। খোঁজ না পেয়ে তার বাবা ১২ জুন কেন্দুয়া থানায় একটি জিডি করেন। ২৫ জুন অপহরণকারীরা মোবাইলে শুক্কুরের বাবার কাছ থেকে ছয় লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। মুক্তিপণ না পেয়ে দণ্ডপ্রাপ্তরা শুক্কুরকে হত্যার পর লাশ খণ্ড খণ্ড করে কেটে সুতি নদীতে ডুবিয়ে রাখে। পরবর্তীতে গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে আসামিদের আটক করা হয়। তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সুতি নদী থেকে শুক্কুর আলীর খণ্ডিত মস্তক, খণ্ডিত হাত এবং ১৪টি পাঁজরের হাড় পুলিশ উদ্ধার করে। পুলিশ তদন্ত শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ১৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
 
বরগুনা (উত্তর) : বরগুনায় শিশু রবিউল আউয়ালকে হত্যার দায়ে একজনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। অনাদায়ে তাকে আরো সাত বছর কারাভোগ করতে হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়। মঙ্গলবার আসামির উপস্থিতিতে বরগুনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মাদ আবু তাহের এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত মিরাজ হোসেন (৪৫) সোনাকাটা ইউনিয়নের ছোট আমখোলা গ্রামের বাসিন্দা।
 
মামলার নথি থেকে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ৩ আগস্ট রাতে খালে পেতে রাখা জালের মাছ চুরির অভিযোগ তুলে ছোট আমখোলা গ্রামের দুলাল মৃধার ছেলে রবিউলকে (১০) পিটিয়ে হত্যা করে তার লাশ পাশের খালে ফেলে রাখেন আসামি মিরাজ। পরদিন বিকালে লকরার খালে রবিউলের লাশ পাওয়া যায়। ওই ঘটনায় ৫ অগাস্ট রবিউলের বাবা দুলাল মৃধা বাদী হয়ে তালতলী থানায় মিরাজকে প্রধান আসামি করে হত্যা মামলা করেন। ওইদিনই মিরাজকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ৬ অগাস্ট মিরাজ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ২৩ অগাস্ট মিরাজকে একমাত্র আসামি করে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দেয়।