পবিত্র রমজান শুরু হতে আর বাকি মাত্র ৫দিন। তার আগেই নিত্যপণ্যের বাজার অস্থির। বিশেষ করে ছোলা, চিনি, মসুর ডাল ও রসুনের দাম বেড়েছে সব থেকে বেশি। দাম বাড়ার এ তালিকায় গতকাল বুধবার নতুন করে যুক্ত হয়েছে আদা। সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর হিসাবে গতকাল মানভেদে প্রতি কেজি আদার দাম বেড়েছে ১০ টাকা। বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ১০০ টাকায়।
এদিকে বাজার নিয়ন্ত্রণে টিসিবি খোলাবাজারে সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য বিক্রি শুরু করলেও বাজারে কোনো ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে না। তবে বাজারের তুলনায় কম দামে ছোলা, চিনি, মসুর ডাল, ভোজ্যতেল ও খেজুর কিনতে টিসিবির ট্রাকের সামনে ভিড় বাড়ছে ক্রেতাদের। অনেক জায়গায় দীর্ঘ লাইন ধরে পণ্য কিনতে দেখা গেছে তাদের। তবে চাহিদামত পণ্য পাওয়া যাচ্ছে না এমন অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা।
গতকাল বিকালে মতিঝিলস্থ বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে থাকা টিসিবির ট্রাক থেকে খেজুর কিনতে পারেননি বলে অভিযোগ করেন ক্রেতা দেলোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, চাহিদা অনুযায়ী পণ্যের সরবরাহ না থাকলে কিভাবে হবে?
এদিকে শুধু এখানেই নয়, টিসিবির পণ্য বিক্রির অনেক পয়েন্টেই চাহিদামত খেজুর পাওয়া যাচ্ছে না-এমন অভিযোগ রয়েছে ক্রেতাদের। শুধু খেজুর নয়, টিসিবির বিক্রিত অনেক পণ্যই দেখা যায় দুপুরের আগেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতি বছর রমজান উপলক্ষে টিসিবি খোলাবাজারে বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করলেও এবার বাজারে সেসব পণ্যের দাম বেশি হওয়ায় টিসিবির পণ্যের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি। এছাড়া এবার টিসিবির পণ্য তুলনামূলক মানেও ভালো।
উল্লেখ্য, গত ২৯ মে থেকে রাজধানীসহ সারাদেশে ১৭৯টি ট্রাকে পণ্য বিক্রি শুরু করেছে টিসিবি। পুরো রমজান জুড়ে এ পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম চলবে। দেশি চিনি, ছোলা, মসুর ডাল, সয়াবিন তেল ও খেজুর এই ৫টি পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে।
রাজধানীতে ৩২টি ট্রাক ছাড়াও চট্টগ্রামে ১০টি, অন্য বিভাগীয় শহরে ৫টি ও জেলা সদরে ২টি করে ট্রাকে এসব পণ্য বিক্রি হবে। একজন ক্রেতা একসাথে সর্বোচ্চ ৪ কেজি চিনি, ২ কেজি মসুর ডাল, ৫ লিটার সয়াবিন তেল, ৫ কেজি ছোলা ও ১ কেজি খেজুর কিনতে পারবেন। প্রতি কেজি চিনি ৪৮ টাকা, মসুর ডাল ৮৯.৯৫ টাকা, ছোলা ৭০ টাকা, খেজুর ৯০ টাকা ও সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ৮০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে।
অন্যদিকে বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি চিনি ৬০ থেকে ৬২ টাকা, মসুর ডাল মানভেদে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা, ছোলা ৮৫ থেকে ১০০ টাকা ও বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ৯০ থেকে ৯৫ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে।
টিসিবি’র তথ্য কর্মকর্তা (মুখপাত্র) মো. হুমায়ুন কবির বলেন, টিসিবির কাছে যথেষ্ট পরিমাণে পণ্য মজুদ রয়েছে। তাই দুশ্চিন্তার কিছু নেই।
উল্লেখ্য, রাজধানীতে প্রেসক্লাব, সচিবালয় গেট, কাপ্তানবাজার, ছাপড়া মসজিদ ও পলাশী বাজার, নিউমার্কেট/ নীলক্ষেত বাজার, মোহাম্মদপুর টাউন হল ও ঝিগাতলা কাঁচাবাজার, শান্তিনগরবাজার, মালিবাগ বাজার, খিলগাঁও বাজার, বাসাবো বাজার, শাহজাহানপুর বাজার, ফকিরাপুল বাজার ও আইডিয়াল জোন, রামপুরা বাজার, নতুন বাজার, বাড্ডা, বনশ্রী/ মেরাদিয়া বাজার, মাদারটেক/ নন্দীপাড়া কৃষি ব্যাংকের সামনে, দৈনিক বাংলা মোড়, মতিঝিল বক চত্বর, দিলকুশা, বাংলাদেশ ব্যাংক/ শাপলা চত্বর, সায়েদাবাদ/ যাত্রাবাড়ি/ ডেমরা, গেন্ডারিয়া বাজার, খামারবাড়ি, কলমিলতা বাজার, মহাখালী কাঁচাবাজার/সাততলা মসজিদের সামনে, শ্যামলী কল্যাণপুর ওভারব্রীজ, শেওড়াপাড়া, মিরপুর ১ নং মাজার রোড ও গাবতলী, মিরপুর ১০ গোলচত্বর, কালশি বাজার মোড়/ দুয়ারিপাড়া, রজনীগন্ধা সুপার মার্কেট, কচুক্ষেত ও হাজীক্যাম্প/ বিমানবন্দর এলাকায় টিসিবির পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে।