শিক্ষার সুষম সুযোগ বাড়ানোর জন্য নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। পাশাপাশি শিক্ষা সহায়তায় বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য সাড়ে ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন।
বৃহস্পতিবার বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা ও মানব সম্পদ উন্নয়নে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আসছি। তাই সামগ্রিক শিক্ষাখাতের ব্যয়কে দীর্ঘ মেয়াদী বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করে এ খাতের উন্নয়নে আমরা বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছি। তিনি বলেন, শিক্ষা সহায়তায় বেসরকারি শিক্ষকদের কল্যাণে ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অবসর সুবিধা বোর্ড’র অনুকূলে ৫০০ কোটি টাকার এনডাওমেন্ট ফান্ড এবং ১০০ কোটি টাকা এককালীন অনুদান প্রস্তাব করছি।
আর ‘বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের কল্যাণ ট্রাস্টে’ ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেন মুহিত। প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে নানা পরিকল্পনার কথা জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, সব প্রাথমিকে প্রাক-প্রাথমিক চালুকরণসহ কারিকুলাম প্রণয়ন, বই মুদ্রণ এবং প্রায় ৩৫ হাজার শিক্ষক নিয়োগ করা হবে। আরও প্রায় ৩ হাজার শিক্ষক নিয়োগ ও তাদের প্রশিক্ষণের কথা বলেছেন মন্ত্রী। প্রাথমিক শিক্ষা ২০১৮ সালের মধ্যে অষ্টম শ্রেণিতে উন্নীত করতে কাজ করা হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এরইমধ্যে ৭৬০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণী চালু করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, নিরক্ষরতা মুক্তের জন্য ১৫-৪৫ বছর বয়সী নিরক্ষর জনগণকে মৌলিক স্বাক্ষরতা ও জীবন দক্ষতামূলক প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য উপানুষ্ঠানিক শিক্ষাখাতে একটি সেক্টর কর্মসূচি প্রণয়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে । ৬৩ হাজার শ্রেণীকক্ষ নির্মাণের জন্য বিদ্যালয় নির্মাণ কাজে ব্যক্তিখাতে উদ্যোগ বাঞ্ছনীয়। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে জরাজীর্ণ বিদ্যালয় সংস্কারের ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী।