জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৭ দশমিক ২ শতাংশ
আগামী ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মোট দেশজ উত্পাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ২ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের বাজেটে এই লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৭ শতাংশ। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূচকে ইতিবাচক পরিবর্তন সূচিত হয়েছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রক্ষেপণ করেছে চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৭ দশমিক ০৫ শতাংশ।
মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ৫ দশমিক ৮ শতাংশ
আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মূল্যস্ফীতির লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের বাজেটে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬ দশমিক ২ শতাংশ। গত এপ্রিল মাস পর্যন্ত চলতি অর্থবছরের ১০ মাসে পয়েন্ট টু পয়েন্টে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৬১ শতাংশে, যা মার্চ মাসে ছিল ৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ে এপ্রিল মাসে ছিল ৬ দশমিক ৩২ শতাংশ। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, আগামী বছরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলসহ পণ্যমূল্য কমার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য কিছুটা কমানো হয়েছে, যা খাদ্য বহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হ্রাসে ভূমিকা রাখবে।
সুদ দিতেই ব্যয় প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা
আগামী অর্থবছরে ঋণের সুদ দিতেই খরচ হবে ৩৯ হাজার ৯৫১ কোটি টাকা। অনুন্নয়ন খাতে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যয় হবে ২ লাখ ২৮ হাজার ৭৯ কোটি টাকা। সে হিসাবে খাতওয়ারি সবচেয়ে বেশি ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে সুদ পরিশোধের জন্য।
যানজট নিরসনে মেট্রোপলিটন যোগাযোগ কর্তৃপক্ষ গঠনের প্রস্তাব
যানজট নিরসনে ঢাকা এবং এর নিকটস্থ নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদী এলাকার যানবাহন নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। এজন্য একটি স্বতন্ত্র মেট্রোপলিটন যোগাযোগ কর্তৃপক্ষ গঠনের চিন্তা ভাবনা আমাদের রয়েছে। পরিকল্পনা প্রণয়ন, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, যানবাহনের লাইসেন্সিং ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা, বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের পরিচালনায় সমন্বয় সাধন এবং একই সাথে উড়াল সেতু বা পাতাল রেল স্থাপনের মধ্যে সমন্বয় সাধন হবে এ কর্তৃপক্ষের প্রধান দায়িত্ব। আগামী অর্থবছরের মধ্যেই এ প্রতিষ্ঠানটি কার্যকর হবে। ইতোমধ্যে ঢাকা মহানগরের যানজট নিরসনে বাস র্যাপিড ট্রানজিটের ডিপো নির্মাণের পূর্ত কাজ শুরু হয়েছে। শিগগির শুরু হবে ডেডিকেটেড লেন নির্মাণের কাজ। স্ট্র্যাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যানকে হালনাগাদ করে এর আওতায় তিনটি তিনস্তর বিশিষ্ট সার্কুলার রুট, ৫টি এমআরটি লাইন ও ২টি বিআরটি লাইন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া গণপরিবহন ব্যবস্থায় স্বাচ্ছন্দ্য আনার লক্ষ্যে বিআরটিসি বহরে ৬০০টি বাস ও ৫০০টি ট্রাক সংগ্রহের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
আগামী বছরেই ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল গঠন
আগামী অর্থবছরের মধ্যেই ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল গঠন করা হবে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন জনস্বার্থ বিষয়ক সংস্থাগুলোর ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিংকে একটি সুনিয়ন্ত্রিত কাঠামোর আওতায় আনয়ন, হিসাব ও নিরীক্ষা পেশার প্রমিতমান প্রণয়ন, প্রতিপালন, বাস্তবায়ন ও তদারকির জন্য ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং আইন, ২০১৫ পাস করা হয়েছে। কিন্তু কাউন্সিলটি এখনও প্রতিষ্ঠা করা হয়নি। এ কাজটি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের মধ্যেই সম্পন্ন হবে।
নারীর অংশগ্রহণ বাড়লে জিডিপি বাড়বে ১ শতাংশ
বর্তমানে মাত্র ৩৪ শতাংশ নারী অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত আছেন। নারীদের অধিকতর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে প্রবৃদ্ধি অনেক ত্বরান্বিত হবে। আগামী ৫ বছরে নারীদের অংশগ্রহণ ১০ শতাংশ বাড়ানো গেলে এ থেকেইে প্রতিবছর অতিরিক্ত জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে প্রায় ১ শতাংশীয় পয়েন্ট।
১৬ হাজার টাকার বেশি হলে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক
সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চাকরিজীবীদের বেতন ১৬ হাজার টাকার বেশি হলে তার রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করেছে সরকার। রিটার্ন দাখিলের আওতা সম্প্রসারণ করে সকল সমবায় সমিতি, কর অব্যাহতি প্রাপ্ত বা হ্রাসকৃত কর হারের সুবিধা ভোগকারী করদাতা, কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার পরিচালক বা শেয়ারহোল্ডার কর্মচারী, কোম্পানি বা গ্রুপ অব কোম্পানিজের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, ফার্মের সকল অংশীদার এবং ১৬ হাজার টাকা বা তার অধিক বেতন স্কেলভুক্ত সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের সকল কর্মচারীর জন্য রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক।
পাঁচ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্রে ৫ শতাংশ হারে উেস কর
পারিবারিক সঞ্চয়পত্র, গ্রাচুইটি ফান্ডসহ সব ধরনের সঞ্চয়পত্রে পাঁচ লাখ টাকার ঊর্ধ্বে ৫ শতাংশ হারে উেস কর দিতে হবে। তবে ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ড, ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ড, ইউরো ইনভেস্টমেন্ট বন্ড ও পাউন্ড ইনভেস্টমেন্ট বন্ডে কোনো প্রকার উেস কর দিতে হবে না।
আগামী বছর থেকে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে জিডিপির হিসাব
আগামী অর্থবছর থেকে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে জিডিপির হিসাব করার জন্য প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। তাই ত্রৈমাসিক ভিত্তিতেই জিডিপির হিসাব পাওয়া যাবে। ইতোমধ্যে অর্থনীতি বিষয়ক বিভিন্ন তথ্য পাওয়ার জন্য আগে যে সময় লাগতো তা কমিয়ে আনা হয়েছে।