কক্সবাজারে স্বপ্নের বাংলো বানানো হলো না ‘মোহাম্মদ আলীর’

কক্সবাজারে বিশ্ব বিখ্যাত মুষ্টিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীর এক টুকরো জমি আছে। ১৯৭৭ সালে বিশ্বের দীর্ঘতম কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকত ভ্রমণে এসেছিলেন মুষ্টিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী। তখনই কক্সবাজারের একজন মোহাম্মদ আলীর ভক্ত তাঁকে দিয়েছিলেন এক বিঘা জমি। 
 
কক্সবাজারে কিংবদন্তির এই নায়ককে এক বিঘা জমি দানের বিষয়টি সবারই জানা। তার স্বপ্ন ছিল কক্সবাজার সাগর তীরে একটি বাংলো বানানো। সেটা আর হল না।  মুষ্টিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীকে এক বিঘা জমি দিয়েছিলেন কক্সবাজার শহরের কলাতলীর বাসিন্দা প্রাক্তন ছাত্রলীগ নেতা এবং বিশিষ্ট ক্রীড়ামোদী আকতার নেওয়াজ খান বাবুল। 
 
সন্ধ্যায় কক্সবাজারের কলাতলী সৈকতের হোটেল মি ক্রাউনের সামনে সৈকতের বালুচরে জমিখন্ডটি দেখিয়ে দিলেন দাতার কেয়ার টেকার আবুল কালাম কালু।  বিশিষ্ট ক্রীড়ামোদী আকতার নেওয়াজ খান বাবুল এই শহরের কলাতলীর বাসিন্দা। চাকুরে পিতা নজির আহমদের একমাত্র পুত্র আকতার নেওয়াজ খান বাবুল বর্তমানে রাজধানী ঢাকায় থাকেন সস্ত্রীক। তিনি বলেন, আমি মুষ্টিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীর একজন অনুরক্ত এবং সিরিয়াস ভক্ত ছিলাম। তিনি যখন ১৯৭৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কক্সবাজারে আসছেন তখনই আমি সিদ্ধান্ত নিই এই বিখ্যাত ব্যক্তিকে এক বিঘা জমি দেব। সেই ভক্তির কারণেই জমি দেয়া।
 
আকতার নেওয়াজ খান বাবুল বলেন, মোহাম্মদ আলীকে কক্সবাজারের হোটেল শৈবালের এক নৈশ ভোজের অনুষ্ঠানেই দিয়েছিলাম আমার জমি খণ্ডটি। একটি ‘লেটার অব এক্সেপটেন্টের’ মাধ্যমেই মোহাম্মদ আলীকে জমি দেয়া হয়। তিনি তাতে সই করে জমি গ্রহণও করেছিলেন। কিন্তু সেই জমিতে আদৌ আর কোনদিন তাঁর আসার সৌভাগ্য হয়নি। সে সময় কক্সবাজার থেকে ফিরে যাবার পর বেশ ক’বছর ধরে মোহাম্মদ আলীর সাথে বাবুলের যোগাযোগ ছিল।
 
জমিদাতা আকতার নেওয়াজ খান বাবুল আরো বলেন-যে সময় তিনি তার মালিকানাধীন এক বিঘা জমি মোহাম্মদ আলীকে প্রদান করছিলেন তখনও অবশ্য সাগরের তীর ছিল। কিন্তু ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের শতাব্দীর প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় জলোচ্ছ্বাসে কলাতলী এলাকার আমাদের পরিবারের কয়েক বিঘা জমি সাগরে তলিয়ে যায়। বর্তমানে তলিয়ে যাওয়া জমি সৈকতের বালুচর।