ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের মৃত্যুকেও ভোটের সহিংসতায় চালানো হচ্ছে : হানিফ

আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুব-উল-আলম হানিফ অভিযোগ করেছেন, সরকারকে চাপে রাখতে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব এবং অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়া লোকদেরও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সহিংসতায় মারা গেছে বলে প্রাণহানির সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে।
 
রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বিএনপি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করলে এই ধরনের সহিংস ঘটনা কমে যেত। তারা শুরু থেকেই ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে এই নির্বাচন ও নির্বাচন কমিশনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পথ বেছে নিয়েছে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত ও সামাজিক দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংসতাকে নির্বাচনী সহিংসতা হিসেবে চালিয়ে দিয়ে সরকার ও নির্বাচনকে বিতর্কিত করতে চাচ্ছে একটি দল।
 
সরকার ও নির্বাচনকে চাপে রাখতে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বে নিহত ও অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়াদের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতার ঘটনায় মারা গেছে বলে নিহতের সংখ্যা বাড়ানোর অভিযোগ করে হানিফ বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোটের বিগত তিন বছরের নৈরাজ্যমূলক সহিংস কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কিছু বিচ্ছিন্ন সহিংস ঘটনা ঘটেছে।
 
গত ফেব্রুয়ারিতে এই ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর শতাধিক লোকের প্রাণহানি ঘটে। তার মধ্যে পাঁচ ধাপের ভোটের দিন মারা যান অন্তত ৩৫ জন; বাকিরা ভোটের আগে-পরের সহিংসতায়। শনিবার ষষ্ঠ ও শেষ ধাপের ভোটের দিন মারা গেছে আরও চারজন।
 
স্থানীয় সরকারের সবচেয়ে জনপ্রিয় হিসেবে পরিচিত এই নির্বাচনে এবার সহিংসতা বেড়েছে; রেকর্ড হয়েছে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার সংখ্যায়। এর আগে ১৯৮৮ সালে এইচ এম এরশাদের শাসনামলে একদিনের দেশব্যাপী ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে সর্বোচ্চ ১০০ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার এবং সহিংসতায় ৮০ জনের প্রাণহানির তথ্য পাওয়া গেছে।
 
২০০৩ সালে বিএনপি শাসনামলে তিন মাসব্যাপী ইউপি নির্বাচনে সহিংসতায় অন্তত ৮৩ জনের প্রাণহানির এবং ৩৪ জনের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার তথ্য রয়েছে ইসির কাছে।
 
রাজধানীর ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির সম্পাদকমণ্ডলীর এক সভা শেষে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনী কাজে সহযোগিতা করায় নির্বাচন কমিশনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ধন্যবাদ হানিফ।
 
এ সময় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংগঠিত ঘটনার দায় সরকারের উপর চাপিয়ে রাজনৈতিক ‘ফায়দা লোটার’চেষ্টা করলে এই ধরনের ঘটনার আশঙ্কা থেকে যাবে উল্লেখ করে সব রাজনৈতিক দলকে ‘দায়িত্বশীল ভূমিকা’পালনের আহ্বান জানান আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
 
দেশের ৭৬ দশমিক ৮৭ ভাগ মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে দাবি করে তিনি বলেন, ৩০ হাজারের অধিক কেন্দ্রের মধ্যে বিভিন্ন অনিয়মের কারণে নির্বাচন কমিশন ৩৪৬টি কেন্দ্র বন্ধ করেছে, যা দশমিক শূন্য ৫ শতাংশের নিচে। নির্বাচন কমিশন ও সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করেছে।
 
চট্টগ্রামে পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীকে হত্যার নিন্দা জানিয়ে হানিফ বলেন, এই হত্যাকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটা সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে ও সরকারকে উৎখাত করতে যারা দীর্ঘদিন ধরে সহিংসতা চালাচ্ছে তাদের কর্মকাণ্ডের একটা অংশ বলে আমরা মনে করি।
 
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ‘অতি দ্রুত’এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে পারবে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
 
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে ছিলেন দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, কেন্দ্রীয় সদস্য এস এম কামাল হোসেন, একেএম এনামুল হক শামীম ও সুজিত রায় নন্দী।