আদিবাসী বৃদ্ধ তারিনী ও বিশ্বনাথের ভাগ্যে জোটেনি বয়স্ক ভাতা

নওগাঁর ধামইরহাটের আদিবাসী বৃদ্ধ তারিনী মহন্ত, বয়স ৮১ বছর পেরোলেও তার ভাগ্যে জোটেনি বয়স্ক ভাতার কার্ড। তাই এ বয়সেও কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতে হয় তাকে।
 
তারিনী মহন্তের বাড়ি উপজেলার জাহানপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত নানাইচ বৈরাগীপাড়া গ্রামে। বাবা কিষ্টলাল মহন্তের চার ছেলে ও এক বোন নিয়ে তাদের পরিবার। বাবা, মা, দুই ভাই ও বোন এরই মধ্যে মারা গেছেন। বাবার জোত-জমি বলতে কিছু নেই। মাত্র ১৪ শতাংশ জমি রয়েছে। সেই জমিতে কোনো রকমে বসবাস করছেন। তারিনী মহন্ত ও তার বড় ভাই বিশ্বনাথ মহন্ত (৮৪) বিয়ে করেননি। তারিনী মহন্ত ও বিশ্বনাথ মহন্ত আর এক ভাইয়ের ছেলে নরেন বাবুর ঘরের বারান্দায় বর্তমানে বসবাস করেন। দুই ভাইয়ের শরীরে বিভিন্ন রোগ-বালাই বাসা বাঁধতে শুরু করেছে। তারা আর আগের মতো মাঠে কাজ করতে পারেন না। বিশ্বনাথ মহন্ত মাঠ থেকে গরু নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে পড়ে গিয়ে ডান পা ভেঙে গেছে। প্রায় দুই মাস ধরে তিনি কষ্ট ভোগ করছেন। অর্থের অভাবে চিকিত্সা নিতে পারছেন না। বিভিন্ন জায়গায় ধরনা দিয়েও তারা দুই ভাই বয়স্ক ভাতার কার্ড সংগ্রহ করতে পারেননি। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আগে চেয়ারম্যান, মহিলা ইউপি সদস্য ও সাধারণ সদস্য সবাই তাদের কাছে ভোট প্রার্থনা করেন এবং বলেন বিজয়ী হলে বয়স্ক ভাতার কার্ড প্রাপ্তির ব্যবস্থা করে দেবেন। কিন্তু ভোট হয়ে গেলেও আর তাদের কেউ খোঁজ রাখেননি।
 
এ ব্যাপারে জাহানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওসমান আলী বলেন, ‘তারিনী মহন্তের বয়স্ক ভাতার কার্ড তৈরির কাজ চলছে, আগামীতে তার বড় ভাই বিশ্বনাথ মহন্ত বয়স্ক ভাতার কার্ড যেন পান, তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তাপস রায় বলেন, ‘বয়স্ক ভাতার কার্ড প্রদানের জন্য প্রত্যেক ইউনিয়নে মাইকিং করে প্রবীণদের জানানো হয়েছে। তারপর যদি কেউ বাদ পড়েন আমার সাথে যোগাযোগ করলে বয়স্ক ভাতার কার্ড প্রাপ্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’