'অর্থনীতি-শিক্ষার উন্নয়ন হলে পরিবেশেরও উন্নয়ন হবে'

 
পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু পরিবেশের উন্নয়নের জন্য অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং শিক্ষার হার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তিনি বলেন, আশার কথা হচ্ছে বিগত বছরগুলোতে দেশের জনগণের মাথাপিছু আয় এবং শিক্ষার হারও বেড়েছে। এ দুটির আরো উন্নয়ন হলে দেশের জনগণই পরিবেশ রক্ষায় সচেতন হবে।
 
রবিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু একথা বলেন। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ অধিদফতরের সহায়তায় দৈনিক 'সমকাল' এ গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে।
 
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীগত জীবনে অর্থনৈতিক স্বাচ্ছন্দ্য আসলেই মানুষ পরিচ্ছন্ন জীবনযাপনে অভ্যস্ত হবে। তবে পরিবেশ রক্ষায় বিভিন্ন আইন এবং বিধিবিধান যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে হবে। বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশেও পরিবেশ রক্ষায় মানুষকে আইন মানতে বাধ্য করা হয়। তিনি বলেন, অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের মতো আশির দশক থেকে বাংলাদেশে পরিবেশ রক্ষার ধারণাটি চালু আছে। পরিবেশ রক্ষায় যেসব দেশ বা দাতারা আমাদের অর্থ দেন তারা এ অর্থ ব্যবহারের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পরিবেশ বিষয়ক বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থ ব্যয়ের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য সরকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে। আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, পরিবেশ দূষণের জন্য উন্নয়নশীল দেশগুলো অনেক সময় উন্নত দেশগুলোকে দায়ী করে। এ ধারণাটি পুরোপুরি সঠিক নয়। উন্নয়নশীল দেশগুলোও পরিবেশ দূষণের সাথে জড়িত। কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত না থাকলেও এ কথা বলা যায় যে, আমরাও পরিবেশ দূষণ করছি। পরিবেশ রক্ষার কাজে সরকার ইতোমধ্যে নিজস্ব উত্স থেকে অর্থ বরাদ্দ করেছে। বেশকিছু প্রকল্পও এর মধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। গত ২০ বছরে অনেক প্রতিষ্ঠানও আমরা গড়ে তুলেছি। সুতরাং আমাদের অধৈর্য হলে চলবে না। তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষায় আমাদের পিছিয়ে পড়ার কোনো উপায় নেই। মানুষের মধ্যে যে সচেতনতা তৈরি হয়েছে তাকে কাজে লাগিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।
 
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ ও বন উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ-আল-ইসলাম জ্যাকব বলেন, পরিবেশ রক্ষায় আমরা যেন সভা, সেমিনার এবং বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকি। পরিবেশ রক্ষায় আমাদের কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে বেশকিছু কাজ হয়েছে বলেই প্রধানমন্ত্রী ‘চ্যাম্পিয়ান অব দ্য আর্থ’ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। তবে সবার আগে দরকার জনসচেতনতা।
 
সভাপতির বক্তব্যে মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. কামালউদ্দিন আহমেদ বলেন, পরিবেশের বিষয়টি শুধু বাংলাদেশের একার সমস্যা নয়, এটি বৈশ্বিক সমস্যা। সবাইকে নিয়ে এ সমস্যার মোকাবিলা করতে হবে।
 
পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক রাইছ-উল-আলম মন্ডল বলেন, যে কোনো অভিযোগ দায়েরের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের দরজা সবসময় খোলা। সবার সহযোগিতা নিয়ে অধিদপ্তর পরিবেশ রক্ষার কাজটি করতে চায়।
 
প্রধান বন সংরক্ষক ইউনুছ আলী বলেন, পরিবেশ রক্ষার জন্য আমাদের প্রযুক্তির উন্নয়ন করতে হবে। কিন্তু এক্ষত্রে আমাদের স্থানীয় সম্পদের অপ্রতুলতা রয়েছে।
 
জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, পরিবেশ রক্ষায় আমরা চমত্কার পরিকল্পনা নিলেও তা বাস্তবায়ন করতে পারি না। পরিবেশ ঠিক না করলে তার অভিঘাত দেশের অর্থনীতির ওপর পড়বে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
 
সাংবাদিক প্রভাষ আমিন বলেন, পরিবেশ নষ্ট করার সময় আমরা আমাদের ভবিষ্যত্ প্রজন্মের কথা ভাবি না। উন্নয়নের নামে ঢাকার আশপাশের নদী এবং ভিতরের খালগুলো নষ্ট করে ফেলা হয়েছে।
 
এফবিসিসিআই-এর প্রতিনিধি আবু হাসনাত কবির বলেন, প্রত্যেক শিল্প প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের সচেতন করার ব্যবস্থা রাখতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান দূষণ করছে কিনা তা কঠোর নজরদারিতে রাখতে হবে।
 
ঢাকা চেম্বারের প্রতিনিধি রেজাউল করিম পরিবেশের জন্য একজন ন্যায়পাল নিয়োগের পরামর্শ দেন। ‘সমকাল’র নির্বাহী সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মূল নিবন্ধ উপস্থাপন করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ আলমগীর। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আইইউসিএন এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি ইশতিয়াক আহমেদ, বাপার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন, বিজিএমইএর সহ-সভাপতি ফারুক হাসান, উন্নয়নকর্মী সিদ্দিক যোবায়ের, ‘বেলা’র খন্দকার রাশিদুল হক, ড. দিলারা জাহিদ, জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জ্ঞান রঞ্জন শীল প্রমুখ।