চট্টগ্রামে পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার হত্যার ঘটনায় পুলিশকে সর্বাত্মক সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জঙ্গি দমনে সম্পৃক্তদের পরিবারে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। গতকাল পুলিশ সদর দফতরে এক জরুরি বৈঠকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয় বলে বৈঠক সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত আইজি ড. জাভেদ পাটোয়ারী ইত্তেফাককে বলেন, পুলিশ সব সময়ই সতর্ক রয়েছে। তবে বাড়তি কিছু সতর্কতা নেওয়ার জন্য পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অপরদিকে গতকাল দুপুরে পুলিশ সদর দফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) মোখলেসুর রহমান মাহমুদা আক্তার হত্যার ঘটনা অত্যন্ত কাপুরুষোচিত ও বর্বরতার বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে ঘটেছে এমনটা আগে দেখিনি। শুধু সফট টার্গেট বা নিরীহ লক্ষ্য বলেই এমন আক্রমণ করা হয়েছে। এই ঘটনা চরম বর্বরতা ও মানবিকতার অবক্ষয়।
এ ধরনের ঘটনা মাঠ পর্যায়ে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের ওপর পড়বে কী না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অবশ্যই কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না, এই ঘটনা থেকে আমরা আরো সতর্ক হবো। এ ধরনের অপতত্পরতাকারী যারা আছে, যারা বাংলাদেশের অবস্থানকে ভঙ্গুর করতে চায়, যারা জঙ্গিবাদের ধোঁয়া তুলে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, তাদের আমরা দৃঢ়ভাবে প্রতিরোধ করবো। এধরনের ঘটনা আমাদের মনোবলে কোনো প্রভাব পড়বে না।
সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত আইজিপি বলেন, আমরা ধারণা করছি এটা জঙ্গি তত্পরতার সাথে সম্পর্কযুক্ত হতে পারে। কেননা যিনি খুন হয়েছেন তার স্বামী জঙ্গি তৎপরতার বিরুদ্ধে কাজ করছেন। তবে আমরা অন্যান্য সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছি না। হত্যাকারীদের ধরতে পুরো শক্তি ব্যবহার করা হবে বলেও জানান তিনি।
ফুটেজ পেয়েছেন কী না এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমরা সব আলামত খতিয়ে দেখছি। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পেলেও তা যথাযথভাবে তদন্তের আওতায় নিয়ে আসবো। গোয়েন্দা তৎপরতার কোনো ব্যর্থতা আছে কী না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গোয়েন্দা তত্পরতার মাধ্যমে পুলিশ অনেক ঘটনাই প্রতিরোধ করে থাকে, যা মিডিয়ায় আসে না। এমন কয়েকটি ঘটনা দেখেই বলে দেওয়া যায় না যে গোয়েন্দা তত্পরতার কোনো গাফিলতি ছিল।