আগামী ২৬ জুলাই একসঙ্গে একই সময়ে ১০ লাখেরও বেশি গাছ লাগিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়বে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। দেশের সকল মহানগর, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা একসঙ্গে এদিন সকাল ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত ১ ঘণ্টা ফলজ, বনজ ও ঔষধি জাতীয় বৃক্ষের চারা লাগাবেন। এই উপলক্ষে ছাত্রলীগ ২ মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। গতকাল রবিবার বিকেলে গাছ লাগিয়ে বিশ্বরেকর্ড করা, ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মকান্ড ও নিজের ভবিষ্যত রাজনীতি নিয়ে ইত্তেফাক অনলাইনের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন। অনলাইনের পাঠকদের জন্য তা তুলে ধরা হলো।
ইত্তেফাক অনলাইন: পরিবেশ নিয়ে ছাত্রলীগের সুদূর প্রসারি চিন্তা-ভাবনা রয়েছে। ছাত্রলীগের মতো ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠনের কাছ থেকে আসা এমন বক্তব্য আমাদের আশাবাদী করে। জানতে চাচ্ছিলাম, গাছ লাগানোর বাইরে আপনারা আর কি কি চিন্তা-ভাবনা করছেন?
জাকির হোসাইন: পরিবেশ নিয়ে সবারই ভাবা উচিত। আমরা এর বাইরে নই। পৃথিবী যদি বাঁচে তাহলে আমরা বাঁচবো। আর ছাত্রলীগ সবসময়ই পরিবেশ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। কুড়িগ্রামে ছিটমহল বিনিময়ের পর আমরাই সর্বপ্রথম সেখানে গিয়ে গাছ লাগাই। আমরা সেখানে ৫০ হাজার চারা রোপনের ব্যবস্থা করি।
ইত্তেফাক অনলাইন: পরিবেশ নিয়ে নানা সময়ে নানান দল ও সংগঠনকে আন্দোলন করতে দেখা গেলেও ছাত্রলীগকে কখনো মাঠে নামতে দেখা যায়নি। এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কি?
জাকির হোসাইন: ছাত্রলীগ সবসময়ই পরিবেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। পরিবেশ নিয়ে আন্দোলন করার মতো কিছু আছে বলে আমি মনে করি না। যারা আন্দোলন করছে তারা আসলে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতেই এই কাজ করছে। দেশের উন্নয়নে কোনো সিদ্ধান্ত হলেই তারা বলছে এটা পরিবেশের ক্ষতি করবে।
ইত্তেফাক অনলাইন: ইত্তেফাক অনলাইনে প্রকাশিত নিউজ অনুযায়ী, আপনারা গিনেজ বুক ওয়ার্ল্ড রেকর্ড এর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তাদের পক্ষ থেকে কি কিছু জানানো হয়েছে? যদি জানায়, তাহলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে লাগানো এসব গাছের হিসেব করা হবে কিভাবে?
জাকির হোসাইন: আমরা যখন আমাদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে গিনেজ কর্তৃপক্ষকে জানাই তখন তারা বিশেষ কোনো দিবস ধার্য করার প্রস্তাব দেয়। তারই ধারাবাহিকতায় ২৬ জুলাইকে আমরা বেছে নেই। দেশের বিভিন্ন স্থানে ১০১টি ইউনিট গাছ লাগাবে। দেশের বাইরে আরো ১০টি ইউনিট থাকবে। এতে কাজ করবে ১০ লাখেরও বেশি কর্মী। আমাদের টার্গেট আমরা বিশ্বরেকর্ড গড়বো। আর এ হিসেবটি মূলত গিনেজ কর্তৃপক্ষ থেকেই করা হবে। তাদের প্রতিনিধি এসেই এই হিসেব করবেন।
ইত্তেফাক অনলাইন: ২৬ জুলাই ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির এক বছর পূর্তি হবে। এই এক বছরে আপনাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য এবং ব্যর্থতার কথা যদি কিছু বলেন।
জাকির হোসাইন: এ সময় আমরা বেশ কিছু কাজ করেছি। বাংলাদেশের সাফল্য ও গৌরবের ইতিহাসে ছাত্রলীগ বরাবরই ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন ধূমপান মুক্ত করি। তারই ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ধূমপান মুক্ত করেন। এছাড়া আমরা সবসময়ই ছাত্রদের পাশে ছিলাম। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সঙ্গে আমরা ভ্যাট বিরোধী আন্দোলনে একাত্ম ছিলাম। মেডিকেল শিক্ষার্থীদের পাশে ছিলাম। আর ব্যর্থতার কথা যদি বলতে হয়, আমরা আমাদের সবগুলো কাজেই সন্তুষ্ট। অামাদের সফলতা ও ব্যর্থতা যাচাই করেব ছাত্রসমাজ। সামনের দিনগুলোতে আরো ভালোভাবে আমাদের দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা থাকবে।
ইত্তেফাক অনলাইন: ছাত্রলীগ নেতা নুরুল আজম রনি বেশকিছুদিন ধরেই আলোচিত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা চলছে। ছাত্রলীগের এমন একজন নেতার এই অবস্থার প্রেক্ষিতে আপনার বক্তব্য কি? ছাত্রলীগ তার মুক্তির দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর চিঠি পেশ করেছে। তাহলে কি আদালতের উপর আপনাদের আস্থা নেই?
জাকির হোসাইন: সে নিঃসন্দেহে ষড়যন্ত্রের শিকার। তার বিরুদ্ধে আচরণবিধির যে মামলা করা হয় তার সাজা সর্বোচ্চ ছয় মাস হতে পারে। কিন্তু তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। এতে করেই বোঝা যায় সে ষড়যন্ত্রের শিকার। ছাত্রলীগের উজ্জ্বল নক্ষত্রদের মাঝে একজন নুরুল আজম রনি। এমন একজন নিবেদিত প্রাণ মানুষকে ঈর্ষার বশবর্তী হয়েই ফাঁসানো হয়েছে বলে আমি মনে করি। তবে আমরা আদালতের প্রতি আস্থাশীল। আমরা আইনের প্রতি যথাযথ সম্মান রেখেই এ লড়াই চালিয়ে যাবো।
ইত্তেফাক অনলাইন: ছাত্রলীগ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সংগঠন। যার কারণে এই সংগঠনের অনেক দায়িত্বও এসে পড়ে। আমাদের দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য ছাত্রলীগ ঠিক কি দায়িত্ব পালন করছে কিংবা ভবিষ্যতে করার পরিকল্পনা করছে?
জাকির হোসাইন: অবশ্যই তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে আমরা কাজ করছি। যারা এবার এসএসসিতে জিপিএ-ফাইভ পেয়েছে আমরা শিগগিরই তাদের সংবর্ধনা দেবো। আমাদের দেশের প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ তরুণ। এটা আমাদের বড় সম্পদ। তাই তাদেরকে নিয়েই দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই আমরা। ইত্তেফাক অনলাইন: বাংলাদেশ সরকার দেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রয়াসে কাজ করে যাচ্ছে। এই ক্ষেত্রে ছাত্রলীগ ঠিক কি ভূমিকা পালন করছে বা করতে পারে? জাকির হোসাইন: আমরাও ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রয়াসে কাজ করে যাচ্ছি। সরকারের প্রত্যেকটি কার্যক্রমে আমরা ওতপ্রোতভাবে কাজ করছি। বিভিন্ন স্কুলে ডিজিটাল ল্যাব ও আইসিটি ক্লাব গড়ে তোলা হচ্ছে। ছাত্রলীগ সেখানেও অবদান রাখছে।
ইত্তেফাক অনলাইন: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও রুয়েটে ছাত্রলীগের কমিটি নির্বাচন কবে হবে?
জাকির হোসাইন: রুয়েটে ২৩ জুলাই, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৪ জুলাই ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬ সেপ্টেম্বর সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। আর ঢাকা কলেজের ব্যাপারেও আমাদের কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। এ ব্যাপারে আমাদের বর্ধিত সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
ইত্তেফাক অনলাইন: এবার আবার গাছ লাগানোর বিষয়ে ফিরে আসি। গাছ লাগানোর বিষয়টি কি শুধু বিশ্বরেকর্ডেই সীমাবদ্ধ থাকবে? এই গাছগুলো পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব কারা নেবেন? এ বিষয়ে আপনাদের পরিকল্পনা কি?
জাকির হোসাইন: এ বিষয়েও আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে। যারা গাছ লাগাবেন তারাই এর পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণ করবেন। কারণ পরিচর্যা না করলে আসলে কোনো লাভ নেই। তাই প্রত্যেক ইউনিটই এ ব্যাপারে কাজ করে যাবে।
ইত্তেফাক অনলাইন: বর্তমানে তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছানোর সবচেয়ে বড় মাধ্যম হচ্ছে ইন্টারনেট ও ফেসবুক। তবে দুঃখজনক হলেও বেশকিছুদিন ধরে ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট বন্ধ কিংবা ঢুকতে সমস্যা হচ্ছে। অন্যদিকে ফেসবুকেও ছাত্রলীগের একাধিক পেজ রয়েছে। ওয়েবসাইট চালু কিংবা পেজ ভেরিফাইয়ের বিষয়ে আপনাদের পরিকল্পনা কি? জাকির হোসাইন: কিছু কারিগরী ত্রুটি থাকতেই পারে। সেটা সমাধান করা হয়েছে। এখন ওয়েবসাইটে ঢোকা যাচ্ছে। আর ফেসবুকেও আমাদের একটি পেজ রয়েছে। সেটার মাধ্যমে সবাই আমাদের কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে পারবেন।
ইত্তেফাক অনলাইন: তরুণ প্রজন্মের প্রতি কোনো উপদেশ বা পরামর্শ যদি দেন।
জাকির হোসাইন: আমি বলতে চাই, কখনো হাল ছাড়া চলবে না। লক্ষ্য অটুট থাকলে ও হৃদয়ে বিশ্বাস থাকলে সাফল্য আসবেই। যারা এবার এসএসসিতে ভালো করতে পারেনি। তাদেরও হতাশ হওয়ার কিছু নেই। হাল না ছেড়ে বিশ্বাসকে আঁকড়ে ধরতে হবে।