‌'পরিবেশ সম্পর্কে দেশে ব্যাপক সচেতনতা এসেছে'

পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু সারাদেশে পরিবেশ সম্পর্কে ব্যাপক সচেতনতা এসেছে উল্লেখ করে বলেছেন, গাছ লাগানো আমাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। শুধু ছোট বা বড় গাছ নয়, বাড়ির আঙিনায় সবজি চাষও করছে অনেকে। তিনি বলেন, ব্যক্তি এবং প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে পরিবেশ সম্পর্কে সচেতনতা এসেছে। এবছর পরিবেশ নিয়ে যে হারে সভা সেমিনার হচ্ছে, এ হারে আগে কখনো হয়নি। 
 
সোমবার কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০১৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এসব কথা বলেন। ইন্সটিটিউশনের সভাপতি সংসদ সদস্য আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এতে সভাপতিত্ব করেন।
 
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বাংলাদেশকে একটি সবুজ দেশ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, চারদিকে গাছ লাগানোর একটি উত্সব চলছে। রাজধানী ঢাকার বাইরে গেলে এটা প্রতীয়মান হয়। এমনকি ওপর থেকে দেখলে সুন্দরবনও অনেক সবুজ দেখায়। 
 
তিনি বলেন, পৃথিবী নামক গ্রহটির উপরের অংশ আমরা ভোগ করছি। এর ফলে সম্পদ ফুরিয়ে যেতে পারে। এজন্য আমাদের খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন করতে হবে। তবে আশার কথা হচ্ছে পরিবর্তনও যথেষ্ঠ হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, সারাবিশ্বে পরিবেশ দূষণ নিয়ে নানা কথা হচ্ছে। বলা হচ্ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়লে বাংলাদেশের মতো দেশগুলো তলিয়ে যাবে কিন্তু এটাও সত্যি যে বাংলাদেশ তলিয়ে গেলে ওয়াশিংটন কিংবা ক্যালিফোর্নিয়ার মতো শহরগুলোও তলিয়ে যেতে পারে। পরিবেশ দূষণ বন্ধে কারখানায় আধুনিক যন্ত্রপাতি বসানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, দূষণ করছে বলে কারখানা বন্ধ করে দিতে হবে এমন নয়। নতুন নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে কারখানাগুলোর দক্ষতা বাড়াতে পারলে দূষণ অনেক কম হবে। তবে আশার কথা হচ্ছে, ষাটের দশক থেকে এ খাতে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। তিনি পরিবেশের জন্য বন্যপ্রাণীর সুরক্ষার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে বলেন, এ বিষয়ে সরকার অনেক সচেতন। এজন্য বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। জনসংখ্যার অনুপাতে বাংলাদেশ অনেক ছোট দেশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগরের কাছে আরেকটি নতুন বাংলাদেশ জেগে উঠছে। এটিকে আমাদের কাজে লাগাতে হবে। তবে এ কাজে সরকার এগিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে পাখি বিষয়ে তিনি বলেন, গাছ হলে পাখি হবে, তাই পাখির জন্য গাছ লাগাতে হবে।
 
সেমিনারের মূল প্রবন্ধে প্রফেসর ড. আ ন ম আমিনুর রহমান বলেন, নগরায়ন এবং শিল্পায়নের ফলে প্রতিবছর আমরা কৃষিজমি হারাচ্ছি। অথচ কৃষি পরিবেশের জন্য একটি অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। কৃষি জমি কমার কারণে বনও অনেক চাপে আছে। অনেক প্রাণী হারিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, যথেষ্ট আইন থাকা সত্ত্বেও বন্যপ্রাণী চোরাচালান হচ্ছে। এ লক্ষ্যে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে কঠোর হতে হবে। সংবিধানে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের বিষয়ে যা বলা আছে। এ বিষয়ে দেশের জনগণকে সচেতন করতে হবে।
 
প্রধান বন সংরক্ষক মো: ইউনুছ আলী বলেন, বন ও বন্যপ্রাণী দেশের টেকসই উন্নয়নকে সমৃদ্ধ করে। বিশ্বে মোট বনভূমি ২৫ শতাংশ হলেও বাংলাদেশে তা মাত্র ১৭ শতাংশ। তিনি বলেন, চাষের জন্য গাছ কাটা হচ্ছে। এজন্য বন্যপ্রাণী চলে যাচ্ছে। বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ইউএনডিপি বাংলাদেশের সহকারী পরিচালক মোঃ খোরশেদ আলম বলেন, একমাত্র বাসযোগ্য পৃথিবীকে আমাদের রক্ষা করতে হবে। এজন্য আমাদের ভোগের চরিত্র পাল্টাতে হবে। তিনি বলেন, মনে রাখতে হবে, প্রবৃদ্ধির প্রয়োজন আছে কিন্তু তা কোনভাবেই পরিবেশকে ধ্বংস করে নয়।
 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন বলেন, বন মানুুষের ঢাল হিসেবে কাজ করে। বন থাকলে বন্যপ্রাণী থাকবে কিন্তু আমরা যদি বনই ধ্বংস করে দিই তাহলে বন্যপ্রাণীর জায়গা কোথায় হবে? তিনি বলেন, বন্যপ্রাণী সুরক্ষা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব।
 
সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, কৃষিবিদ হিসেবে পরিবেশ রক্ষায় আমরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারি। আমাদের মনে রাখতে হবে পরিবেশ বাঁচলে মানুষ বাঁচবে।
 
সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে কৃষিবিদ ড. নীতিশি দেবনাথ, কৃষিবিদ মোবারক আলী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। সেমিনার শেষে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে দুটি করে ফলদ গাছের চারা বিতরণ করেন।