পেট্রোল পাম্পের তেল চুরির টাকার ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধে যশোরের চাড়াভিটা বাজারের ফিলিং স্টেশনে জোড়া খুনের ঘটনা ঘটেছে।
হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মূল ঘাতকসহ চারজনকে আটক করার পর পুলিশ হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে। তেলচুরির টাকা ভাগাভাগি ছাড়াও মাদক সেবন নিয়ে ম্যানেজার-কর্মচারীর বিরোধও হত্যা সংঘটিত হবার নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে বলে দাবি পুলিশের। তবে হত্যা মিশনে ম্যানেজার টার্গেট হলেও কলেজছাত্র অপু পরিস্থিতির শিকার।
সোমবার গভীর রাতে ওই ফিলিং স্টেশনের পলাতক কর্মচারী সিরাজুল ইসলামকে (৩০) সাতক্ষীরার কলারোয়া থেকে আটক করা হয়। এক সময় সিরাজুল একটি বিশেষ বাহিনীর ব্যাটম্যানের (জুতা পালিশ করা কর্মচারী) কাজ করত। এরইমধ্যে তিনি দুটি বিয়ে করেছে। তিনি যশোর সদর উপজেলার মুনসেফপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে। আটক সিরাজুলের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তার তিন সহযোগী যশোর সদরের রামনগর গ্রামের ইকবাল, বাঘারপাড়া উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের নয়ন ও চাড়াভিটার নাসিরকে আটক করা হয়। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সোমবার রাতেই অজ্ঞাত আসামিদের নামে মামলা করেন ফিলিং স্টেশনের ইজারাদার মাসুদুর রহমান।
যশোরের পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান ইত্তেফাককে জানান, আটক কর্মচারী সিরাজুল ইসলামের সাথে ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার ওবায়দুর রহমানের তেল চুরির টাকা ভাগের হিস্যা নিয়ে বিরোধ দীর্ঘদিনের। সিরাজুল পুলিশকে জানিয়েছে গাড়িতে তেল সরবরাহের সময় নানা কৌশলে সে নিজে তেল চুরি করত। অথচ ম্যানেজার চুরির শতকরা ৮০ ভাগই নিয়ে নিত। তাকে দেয়া হতো ২০ ভাগ। সে দীর্ঘদিন ৫০ ভাগ দাবি করলেও ম্যানেজার তা অগ্রাহ্য করে। এছাড়া ইকবাল, নয়ন ও নাসির ফিলিং স্টেশনে বসে গাঁজা সেবন করত। সিরাজুলের সাথে তাদের সখ্য ছিল। সে নিজেও দু-একবার গাঁজায় টান দিত। এজন্য ম্যানেজার প্রায়ই সিরাজুলকে তিরস্কার করত। এতে মনে মনে চরম ক্ষুদ্ধ ছিল সিরাজুল।
যেভাবে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হলো : ঘটনার রাতে সিরাজুল আগে থেকেই পাম্পে অবস্থান করছিল। তিন সহযোগী আসার পর কিলিং মিশন শুরু হয়। প্রথমে ইকবাল একটি কুড়ালের পিছন দিয়ে ম্যানেজার ওবায়দুরের মাথায় আঘাত করে। এরপর সিরাজুল তাকে কোপোতে শুরু করে। এভাবে পর্যায়ক্রমে তারা ৪ জন মিলে কুপিয়ে হত্যা সম্পন্ন করে। এরই মধ্যে কলেজছাত্র লিজন আহমেদ অপু ঘুম থেকে উঠে পরায় একইভাবে কুপিয়ে তাকেও হত্যা করা হয়। সিরাজুলের তিন সহযোগী অপুকে খুন করেছে। ঘটনাস্থলের পাশের একটি ডোবা থেকে হত্যায় ব্যবহৃত কুড়াল মঙ্গলবার উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে সোমবারও একটি কুড়াল উদ্ধারের কথা জানায় পুলিশ।
উল্লেখ্য, রবিবার রাতে যশোর-নড়াইল সড়কের বাঘারপাড়া উপজেলার চাড়াভিটা বাজারে আব্দুল বারী ফিলিং স্টেশনে ম্যানেজার, এক কলেজ ছাত্রসহ ৩ জন ঘুমিয়ে ছিলেন। ওই রাতেই হত্যা করা হয় ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার বাঘারপাড়া উপজেলার দশপাখিয়া গ্রামের রহমান মোল্লার ছেলে ওবায়দুর রহমান (৩০) ও রঘুনাথপুর গ্রামের সদর উদ্দিন খানের ছেলে লিজন আহমেদ অপুকে (২৪)।