পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যাকাণ্ডের তদন্তে অগ্রগতির ক্ষেত্রে আপাতত উদ্ধারকৃত সেই মোটরসাইকেলই ভরসা। সাইকেলটির বর্তমান মালিক বাবুর্চি শহীদুল্লাহকে গতকাল মঙ্গলবার আটক করেছে পুলিশ। আইয়ুব আলী নামে একজন গ্যারেজ মালিককেও গতকাল আটক করা হয়েছে।
৫ জুন সকালে মিতু খুন হওয়ার পর ওইদিন রাতে নগরীর বাদুরতলা বড়মিয়ার গ্যারেজ এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি মোটর সাইকেল (চট্ট মেট্রো-ল-১২-৯৮০৭) পাওয়া যায়। পরে বিআরটিএ কর্তৃক পরীক্ষা করে দেখা যায় মোটরসাইকেলটির নাম্বার প্লেটটি ভুয়া। পরে চেসিস নাম্বারের ভিত্তিতে দেলোয়ার নামে প্রকৃত রেজিস্ট্রেশনকারীর সন্ধান পাওয়া যায়। পুলিশের তদন্ত সংস্থা পিবিআই গত সোমবার রাতে জেলার বোয়ালখালীর মধ্যম কধুরখীল এলাকা থেকে দেলোয়ারকে আটক করে। নগরীর জামালখান এলাকার বাসিন্দা দেলোয়ার জিজ্ঞাসাবাদে জানান মোটরসাইকেলটি প্রায় পাঁচ বছর আগে তিনি বিক্রি করে দিয়েছেন। পিবিআই তার তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল দুপুরে আইয়ুব আলী ও শহীদুল্লাহকে আটক করে।
জানা যায়, দেলোয়ার বোয়ালখালী উপজেলার গোমদণ্ডী এলাকার মোহছেন আউলিয়া ওয়ার্কশপের (গ্যারেজ) মালিক আইয়ুব আলীর মাধ্যমে মোটরসাইকেলটি একই এলাকার শহীদুল্লাহ বাবুর্চির কাছে বিক্রি করেন। পিবিআই শহীদুল্লাহ বাবুর্চিকে পূর্ব গোমদণ্ডী এলাকা থেকে আটক করে।
সূত্রে জানা যায়, শহীদুল্লাহ মোটর সাইকেলটির ব্যাপারে যে সকল তথ্য দিয়েছেন তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। বোয়ালখালী উপজেলা এলাকার বাবুর্চি শহীদুল্লাহর মোটর সাইকেল নগরীর পাঁচলাইশ থানা এলাকার বাদুরতলায় কিভাবে এলো পুলিশ তা নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে বলে জানা যায়। তাছাড়া গাড়িটি কে বা কারা ব্যবহার করেছে তার ওপর ভিত্তি করে হত্যাকাণ্ডে মোটরসাইকেলটি ব্যবহূত হয়েছে কিনা তাও নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান।
মিতু হত্যার ঘটনাটি র্যাব, সিআইডি এবং ডিবিও তদন্ত করছে বলে জানা যায়। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন বিভাগ তদন্ত চালালেও সিএমপির গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) মূল তদন্ত কাজের দায়িত্ব রয়েছেন। পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহারকে প্রতিটি বিভাগের পক্ষ থেকে তাদের সর্বশেষ কাজের অগ্রগতিও জানানো হচ্ছে বলে জানা যায়।
পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তার চট্টগ্রামে সততার সাথে দায়িত্ব পালনকালে যারা তার দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের মধ্যে কোন এক পক্ষ এ নির্মম হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার সম্ভাবনা বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে এসপি বাবুল আক্তারই সন্ত্রাসী বা জঙ্গীগোষ্ঠীর ব্যাপারে বেশি তথ্য দিতে পারবেন। কারণ কাদের কাছ থেকে হুমকি পেয়েছিলেন তা বাবুল আক্তার বলতে পারবেন।
জানা যায়, তদন্ত সংশ্লিষ্টরা তার কাছ থেকেও তথ্য নেয়ার চেষ্টা করবেন। এদিকে বাবুল আক্তার ইতিমধ্যে সন্ত্রাসী ও জঙ্গীগোষ্ঠীর যেসব সদস্যকে আটক করে জেলে পাঠিয়েছেন তদন্ত সংস্থাসমূহ তাদের দিকেও নজর রাখছে। প্রয়োজনে এ ব্যাপারে তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।
সচেতন নাগরিক সমাজের মানববন্ধন, বিক্ষোভ
এদিকে পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারের স্ত্রীর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে গতকাল বিকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে চট্টগ্রামের সর্বস্তরের সচেতন নাগরিক সমাজ। এতে বক্তারা বলেন, বাবুল আক্তার ছিলেন জঙ্গি-জামায়াতের আতঙ্ক। বাবুল আক্তারসহ সমগ্র পুলিশ বাহিনীর মনোবল ভেঙে দেয়ার জন্য অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে তার স্ত্রীকে হত্যা করা হয়েছে। বক্তারা অবিলম্বে খুনীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক অনুপম সেন, রাজনীতিবিদ মৃণাল চৌধুরী, গণজাগরণ মঞ্চ নেতা শরীফ চৌহান, ডা. চন্দন দাশ প্রমুখ। এছাড়াও চট্টগ্রামের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে মিছিল, সমাবেশ করে।