বিদেশি প্রজাতির কারণে দেশি মৌমাছিতে মড়ক

ভিনদেশি মৌমাছি আমদানি করায় দেশি মৌমাছি প্রজাতি মড়কের শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
 
বন্য মৌমাছি ধরে এনে বাক্স বন্দি করে লালন-পালন করার প্রযুক্তি গত কয়েক দশক যাবত্ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ইদানীং ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে ব্যাপকভাবে মৌমাছি চাষ হচ্ছে। কৃষি সমপ্রসারণ বিভাগ, এনজিও ব্র্যাক, প্রশিকা, আশা ইত্যাদি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বাণিজ্যিকভাবে মৌ চাষ শুরু করেছে। বাংলাদেশে যে প্রজাতির মৌমাছি চাষ করার উপযোগী তার নাম ভারতীয় মৌমাছি বা এপিস ইনডিকা। এ দেশের আবহাওয়া অনুযায়ী ক্ষুদে আকৃতির এ মৌমাছি প্রজাতি গাছের কোটরে, দেয়ালের ফাটলে, বাক্স পেটরা ইত্যাদি আবদ্ধ স্থানে বাসা তৈরি করে। এদের উত্পাদিত মধুর মান খুবই উত্কৃষ্ট। তিন দশক আগে কিছু উত্সাহী প্রতিষ্ঠান অভিমত দেয় যে এই প্রজাতির মৌমাছি চাষ কম লাভজনক হওয়ায় এটি বাণিজ্যিকভাবে প্রচলন সম্ভব নয়। তাই তারা সুদূর ইউরোপ থেকে এপিস মিলিফিরা প্রজাতির বেশকিছু মৌকলোনী এদেশে আমদানী করেন। স্বল্পসংখ্যক কলোনী বংশ বিস্তার ঘটিয়ে মাত্র এক দশকেই সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন মৌকলোনীর ঘরে ঘরে। অন্যদিকে যারা দেশি মৌমাছি চাষে আগ্রহী তাদের অভিযোগ, ভিনদেশি এই মৌমাছি আমদানীর ফলে নতুন এক মারাত্মক রোগের শিকার হয়েছে দেশি মৌমাছি। লারভা পচা রোগে ইদানীং দেশি মৌমাছির কলোনি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে স্থানীয়ভাবে ব্যক্তি উদ্যোগী মৌচাষিরা মৌচাষ অনেকটা ছেড়েই দিয়েছেন। ইতোপূর্বে এ মড়কজনিত দুর্যোগের যথাযথ কারণ অনুসন্ধানে দেশি এবং বিদেশি বিশেষজ্ঞরা মতামত রাখেন।
 

রাষ্ট্রপতি স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত মৌমাছি বিশেষজ্ঞ মুক্তাগাছার আব্দুর রাজ্জাক জানান, আমাদের দেশের মৌমাছির বিভিন্ন প্রজাতিতে এ রোগের ইতোহাস ইতিপূর্বে পাওয়া যায়নি। যেহেতু ভিনদেশি মৌমাছি আমদানীর সমসাময়িক সময়ে এ ধরনের সংক্রমণের নমুনা পাওয়া যাচ্ছে সেহেতু বলা যায় যে, রোগটি এপিস মিলিফিরা থেকে স্থানীয় প্রজাতির মৌমাছিতে সংক্রমিত হয়েছে।