জামিননামা দাখিলের পরও অর্থপাচার মামলায় তিন আসামিকে কোন কর্তৃত্ব বলে কারামুক্তি না দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে তার ব্যাখ্যা চেয়েছে হাইকোর্ট। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবির, কাসিমপুর কারাগার-১ এর জেল সুপার সুব্রত কুমার বালা ও অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড সুফিয়া খাতুনকে এই ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার এই সংক্রান্ত এক আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি ফরিদ আহম্মদ ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের ডিভিশন বেঞ্চ এই আদেশ দেয়।
আদালত বলেছে, জামিন পাওয়ার পরও তাদের আটক রাখার জন্য আপনাদের কঠোর ব্যবস্থা নেয়া যায়। শুধু এই তিন আসামি নয় প্রতিদিনই আসামিদের এভাবে কারামুক্তিতে বাধা দেয়া হচ্ছে।
আদালত বলেছে, আপিল বিভাগ হাইকোর্টের জামিন আদেশ স্থগিত করতেই পারে। কিন্তু সর্বোচ্চ আদালতের স্থগিত আদেশ না আসা পর্যন্ত কোনো আসামির কারামুক্তি কি বাধাগ্রস্ত করা যায়?
অর্থপাচার মামলায় গত ২ জানুয়ারি রামপুরা থানায় মামলা দায়ের করে পুলিশ। এই মামলায় গত ৮ মে পাঁচ আসামিকে জামিন দেয় হাইকোর্ট। গত ১৬ মে জামিননামা কারাগারে যাওয়ার পর দুই আসামিকে মুক্তি দেয় কারাকর্তৃপক্ষ। কিন্তু অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড সুফিয়া খাতুনের একটি চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে অপর তিন আসামি গিয়াস উদ্দিন, আমিনুর রহমান ও ওসমান গণিকে মুক্তি দেয়নি কারা কর্তৃপক্ষ।
ঐ চিঠিতে বলা হয়, রাষ্ট্রপক্ষ জামিন আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাবে।
এরপর গত ৫ জুন ঐ তিন আসামির এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষতে হাইকোর্ট দুই জেলাসুপার সহ তিনজনকে তলব করে। আজ তাদের উপস্থিতিতে এই বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে হাইকোর্ট এই বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা তলব করে।