বিশ্ব প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ২ দশমিক ৪ শতাংশ নির্ধারণ করেছে বিশ্বব্যাংক। এর আগে গত জানুয়ারি মাসে বিশ্ব প্রবৃ্দ্ধি ২ দশমিক ৯ শতাংশ হবার পূর্বাভাস দিয়েছিলো সংস্থাটি। উন্নত দেশগুলোর অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে ধীর গতি, দুর্বল চাহিদা, ভোগ্য পন্যের দাম কমে যাওয়াকে দায়ী করেছে সংস্থাটি। গত জানুুয়ারি মাসে আশা করা হয়েছিলো বিশ্ব অর্থনীতির গতি ফিরবে। কিন্তুবিশ্বজুড়ে দ্রব্যমূল্য কমে আসছে। আমদানি ও রফতানির গতিও আশানুরূপ হয়নি। সবমিলিয়ে সম্প্রতি বিশ্বব্যাংক তাদের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে এনেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্ অর্থনীতির দেশ চীন তাদের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৬ দশমিক ৯ থেকে কমিয়ে ৬ দশমিক ৭ করেছে। ভারতের প্রবৃদ্ধি হবে ৭ দশমিক ৬ শতাংশ। অন্যদিকে ব্রাজিল এবং রাশিয়ার অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি না হয়ে আরো সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। ব্রাজিল ও রাশিয়ার এ পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে। প্রবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হতে পারে সাড়ে ৬ শতাংশ। যা আগামি বছরে বেড়ে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ হতে পারে। উল্লেখ্য, চলতি (২০১৫-১৬) অর্থবছরে মোট দেশজ আয়ে (জিডিপি) ৭ দশমিক শুন্য ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির হিসেবে করেছে পরিসংখ্যান ব্যুরো। আসছে নতুন অর্থবছরে সরকার ৭ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। প্রতিবেদনে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রবৃদ্ধি শুন্য দশমিক ৮ ভাগ থেকে কমিয়ে শুণ্য দশমিক ৬ ভাগে নামিয়ে আনা হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতির গতি ফিরছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানী তেলের দাম কম থাকায় দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভুটানসহ বেশিরভাগ দেশ লাভবান হচ্ছে। দেশগুলোর মূল্যস্ফীতিও নিম্নমূখি রয়েছে। তবে চলতি বছর বিশ্বজুড়ে উত্পাদন প্রত্যাশার চেয়ে কমে আসবে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্ব মন্দা শুরু হয়েছে প্রায় ৭ বছর আগে। কিন্তু বড় অর্থনীতির দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি সেভাবে বাড়েনি। বিশ্বে যেধরনের সম্ভাবনা রয়েছে সেভাবে এগুতে পারেনি। উন্নয়নশীল এবং উদীয়মান দেশগুলোর চ্যালেঞ্জ রয়েই গেছে।