রাতের আঁধারে কেটে নেয়া হল ঐহিত্যবাহী বটগাছ

যশোর শহরের প্রাণকেন্দ্র দড়াটানার ঐহিত্যবাহী বটগাছটি কেটে নিয়েছে পুলিশ। বুধবার গভীর রাতে চুপিসারে এ গাছটি কেটে নেয়া হয়।
 
স্থানীয়রা জানান, যশোর শহরের প্রাণকেন্দ্র দড়াটানা থেকে ঘোপ এলাকার প্রবেশ মুখের নামটিই ‘বটতলা'। স্বাধীনতার আগে থেকেই এখানে সুবিশাল দুটি বটবৃক্ষ ছিল। ৭১-এ মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক আর্মি এই গাছ কেটে ফেলে। যুদ্ধ জয়ের পর এখানে আবারও বটগাছ লাগানো হয়। সেই ঐহিত্যবাহী বটগাছটি রাতের আঁধারে কেটে ফেলেছে পুলিশ।
 
শহরের ঘোপের বাসিন্দা জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের কার্যকরী সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা রবিউল আলম  বলেন, পুলিশ একটি ঐহিত্যকে হত্যা করেছে। এই গাছটির সাথে ঘোপবাস, যশোরবাসীর আবেগ জড়িয়ে রয়েছে। ৭১-এ পাক আর্মি এই গাছ কেটে ফেলেছিল। স্বাধীনতার এত বছর পরে এসে সেই বটতলার গাছ কাটলো পুলিশ।
 
তিনি বলেন, গাছের মালিক যেই হোক, বন বিভাগের অনুমতি ছাড়া আইন লঙ্ঘন করে এভাবে কেউ গাছ কাটতে পারে না।
 
যশোরের পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিনওয়ার্ল্ড এনভায়রনমেন্ট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক আশিক মাহমুদ সবুজ বলেন,  যারা যে কারণেরই কাটুক না কেন- এভাবে গাছ কাটা সমর্থনযোগ্য নয়।
 
যশোর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোকসীমুল বারী অপু জানান, এই গাছটি কাটা উচিৎ হয়নি। ওই স্থানে যখন মার্কেট করা হয় তখন গাছটি বাঁচিয়ে করা হয়েছে।
 
এ ব্যাপারে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কেএম আরিফুল হক গাছ কাটার বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানান।