নয়াদিল্লির সেই শিশু সনুর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ

অবশেষে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের টুইট বার্তার প্রতিফলন ঘটতে শুরু করেছে। ২০১০ সালে নয়াদিল্লি থেকে নিখোঁজ সনু নামের শিশুকে তার মা-বাবার কাছে ফিরিয়ে দিতে সনুর ডিএনএ পরীক্ষার জন্য তিনি টুইট করেন ২৪ মে। সুষমার টুইট বার্তা ছিল এরকম : ‘আমরা সনুর মা-বাবার সাথে ডিএনএ পরীক্ষা করব। পরীক্ষার রিপোর্ট পজেটিভ হলে আমরা অতি দ্রুত সনুকে ভারতে ফিরিয়ে আনব।’ সুষমার এই টুইটের ১৬ দিনের মাথায় বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়াদিল্লি থেকে চিকিত্সকরা এসে সনুর রক্তসহ বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করেন। এরপর সেগুলো নিয়ে তার মা-বাবার রক্তের সাথে পরীক্ষা করবেন। সবকিছু মিলে গেলে ভারতীয় দূতাবাস মা-বাবার কাছে সনুকে হস্তান্তর করবেন।
 
বৃহস্পতিবার ভারতীয় দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি (কনস্যুলার) রমা কান্ত গুপ্ত, ইন্ডিয়ান ফরেন অ্যাফেয়ার্সের মেডিকেল কনসালট্যান্ট ডা. ভেব প্রকাশ গ্রোভার ও অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সের ফরেনসিক মেডিসিনের সহকারী অধ্যাপক ডা. চিত্তরঞ্জন বহেরা যশোর কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে আসেন। তবে এ সময় বাংলাদেশের স্বাস্থ্য বিভাগের কোন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন না।
 
ফার্স্ট সেক্রেটারি রমা কান্ত গুপ্ত বলেন, আমরা ডিএনএন পরীক্ষার জন্য এসেছি। যারা তাকে সন্তান হিসেবে দাবি করেছে, তার সাথে মিলে গেলে আমরা তাকে ফিরিয়ে নেব। দুইজনের রক্ত ম্যাচিং হলে আমরা বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বলব সনুকে ভারতে ফিরিয়ে দিতে। এরপর বাংলাদেশ সরকারই পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে। কিন্তু সনু তো বরগুনার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলায় যুক্ত মর্মে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি সেখানকার সিজেএমের সাথে কথা বলেছি। একটি কথা বলতে চাই, সনু ইজ নট এ ক্রিমিনাল, হি ইজ ভিকটিম।’ ডা. ভেব প্রকাশ গ্রোভার জানান, মা-বাবার সাথে সনুর রক্তের ম্যাচিং করতে ১০-১২ দিন সময় লাগবে।
 
উল্লেখ্য, বরগুনার একটি চক্র ২০১০ সালে সনুকে ফুসলিয়ে নিয়ে আসে। দীর্ঘ ৪ বছর চেষ্টার পর বরগুনারই এক দরদি ব্যক্তি জামাল ইবনে মুসা সনুকে ওই চক্রের হাত থেকে উদ্ধার করেন। এর ৫ মাস পর তিনি নয়াদিল্লি গিয়ে সনুর মা-বাবাকে আবিষ্কার করেন। বলিউডের সাড়া জাগানো ‘বাজরাঙ্গি ভাইজান’ চলচ্চিত্রের সাথে এর মিল রয়েছে বলে জামাল ভারতীয় মিডিয়ায় ‘বাংলাদেশি বাজরাঙ্গি ভাইজান’ নামে পরিচিত হন। এই শিরোনামে ৪ জুন ইত্তেফাকের ‘ভিন্ন চোখে’ প্রচ্ছদ প্রতিবেদন ছাপা হয়।