জমে উঠেছে শিবগঞ্জের আম বাজার। এবার আমের দাম তুলনামূলকভাবে নাগালের মধ্যে থাকায় ক্রেতারা খুশি। প্রতিদিনই বিভিন্ন জাতের প্রচুর পরিমাণ আমের সমারোহ ঘটায় দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
দাপদাহের কারণে আম দ্রুত পাকায় জেলার বৃহত্তম আম বাজার শিবগঞ্জ ও কানসাট বাজারে গোপালভোগ, খিরসাপাত, খুদি খিরসা, মধু চুষকি, সাটিয়ার কেড়া, বৃন্দাবনী, টিক্কাফারাস, কালিভোগ, রানিভোগসহ বিভিন্ন জাতের গুটি আম বাজারে বেশ ভালোই উঠেছে। গুটি জাতের বৃন্দাবনি, রানিভোগ, কালিভোগ আম এক হাজার দুইশ থেকে এক হাজার ছয়শ টাকা, গোপালভোগ দুই হাজার দুইশ থেকে দুই হাজার সাতশ টাকা, খিরসাপাত এক হাজার ছয়শ থেকে দুই হাজার টাকা কেন-বেচা হচ্ছে।
কানসাটের আম ব্যবসায়ী এরফান আলী জানান, জুনের মধ্যভাগে বিভিন্ন জাতের আম বাজারে পরিপূর্ণ হয়ে উঠলে দাম আরো কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তারপর আবার রমজান মাস, সেদিকে লক্ষ্য রেখে রমজানে আগাম জাতের কিছু সুস্বাদু গুটি আম বাজারে বিক্রি করার চেষ্টা করছেন। শিবগঞ্জ উপজেলার ১৩ হাজার দুইশ ৫০ হেক্টর জমিতে প্রায় ১১ লাখ আম গাছ রয়েছে। এবার তেমন ঝড় না হলেও কয়েক দফা বৃষ্টির কারণে আমের আকার, রং ও স্বাদ বেশ ভালো হওয়ায় কৃষকরা অনেকাংশে লাভবান হবেন।
শিবগঞ্জের আম ব্যবসায়ী শামীম খান জানান, ভোর হতে গভীর রাত পর্যন্ত আম চাষি ও ব্যাপারিদের ভিড়ে এখন মুখর হয়ে উঠছে আমের বাজারগুলো। বাগান থেকে আম পাড়া, টুকরি তৈরি, বাঁধাই ও ট্রাক বোঝাই থেকে শুরু করে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে মেতে উঠেছে বাজারের লক্ষাধিক আম চাষি ও ব্যবসায়ী। শিবগঞ্জ ও কানসাটে প্রসিদ্ধ আম কেনার জন্য ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, চৌমুহনী, ফেনী, সিলেট, খুলনাসহ বিভিন্ন স্থানের ব্যবসায়ীরা আসা শুরু করেছেন। উপজেলার ঐতিহ্যবাহী আম বাজার কানসাটে বিভিন্ন জাতের আম নামায় বাজার আরো জমে উঠেছে। প্রাচীন এই আমের বাজারে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন রিকশা-ভ্যানে করে বিপুল পরিমাণ আম আসে। এখানে প্রতিদিন আম বিক্রি হয় দুই কোটি টাকার উপরে।