অনলাইনের প্রভাব, পেশা বদলাচ্ছে ছাপা পত্রিকার হকাররা

 
দুলাল মীর। ৪০ বছরের বেশি সময় ধরে পত্রিকা বিক্রি করে আসছেন। তারই ধারাবাহিকতায় তার দুই ছেলে রাজু ও রাসেল এই ব্যবসায় বাবাকে সহযোগিতা করা শুরু করে কয়েক বছর আগে। বর্তমানে তারা কেউই এই পেশায় নেই। রাজু একটি কোম্পানিতে চাকুরি করছে আর রাসেল অটোরিক্সা চালাচ্ছে। এদিকে দুলাল মীর পত্রিকা কম বিক্রি হওয়ার ফলে পান সিগারেটের দোকান খুলে বসেছেন।
 
টগড়া-চরখালী ফেরীতে রাজু নিয়মিত পত্রিকা বিক্রি করেছেন প্রায় ৮ বছর। পত্রিকা বিক্রির সুবাদে পিরোজপুর, জিয়ানগর, ভান্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়া এলাকার অধিকাংশ মানুষের কাছে দুলাল মীর ও তার ছেলেরা খুব পরিচিত। কিন্তু এই অতি পরিচিত মুখ গুলো এখন আর কারো দিকে হাত বাড়ায় না একটি পত্রিকা তুলে দেয়ার জন্য।
 
স্বপন একজন শিক্ষিত বেকার ছেলে। ২০০২ সালে ম্যাট্রিক পাশ করেছেন। সংসারের বড় ছেলে তিনি। তাই বাধ্য হয়েই অল্প বয়সেই তাকে সংসারের হাল ধরতে হয়েছে। তাই ২০০৬ সালের দিকে লাভ জনক পেশা হিসাবে বেছে নিয়ে ছিলেন সংবাদপত্র বিক্রি করাকে। ভালই চলছিল তার এই ব্যবসা। কিন্তু ২০১১ সালের দিকে এসে তার ব্যবসায় কিছুটা ভাটা পরে। ফলে বদলে ফেলেন তিনি পেশা। বর্তমানে ঢাকায় সিএনজি চালিয়ে সংসার চালাচ্ছেন স্বপন। স্বপনের ব্যবসাতে আসলেন তারই ছোট ভাই রুহুল আমিন। সেও বেশি দিন টিকতে পারলেন না এই পেশায়। বর্তমানে রুহুল আমিন ভাড়ায় মটর সাইকেল চালান। বছর খানেক আগে জিয়ানগর উপজেলায় ৪ জন পত্রিকা হকার থাকলেও বর্তমানে রয়েছে মাত্র ১ জন। বাকিরা বদলে ফেলেছেন তাদের পেশা। পেশা বদলের কারন হিসাবে তারা সকলেই ইন্টারনেটকে দায়ী করেছেন।
 
ইন্টারনেট সেবা মানুষের দোর গোড়ায় পৌছে যাওয়ার ফলে দিন দিন কমতে শুরু করেছে ছাপা পত্রিকার প্রচার সংখ্যা। বর্তমান সময়ের আধুনিক পাঠকেরা অধিকাংশ খবরা খবর ইন্টারনেটের মাধ্যমে জেনে নিতে পারছে যখন তখন। ফলে ছাপা পত্রিকা থেকে দিন দিন দূরে সরে যাচ্ছে তরুন ও যুব সমাজ। ইন্টারনেট, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, স্ম্যার্ট ফোনসহ বিভিন্ন ধরনের আধুনিক ইলেকট্রিক ডিভাইসের সহজ লভ্যতার ফলে অনলাইন পত্রিকার কদর বেড়ে চলেছে। যার সুবাদে ব্যাঙের ছাতার মত করে প্রকাশ পাচ্ছে অনলাইন পত্রিকা।
 
অন্যতম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রেখে চলেছে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলে বসেও যখন তখন যে কেউ দেশ বিদেশের যে কোন খবর দেখতে পারছে । কিন্তু দেখা যাচ্ছে ওই সব এলাকায়  ছাপা পত্রিকা পৌছাতে দীর্ঘ সময় লাগে। ছাপা পত্রিকা পৌছানোর আগেই অনলাইনে প্রকাশিত সংবাদ পৌছে যায় সাথে সাথেই সেখানকার পাঠকের হাতে থাকা ডিভাইসে। যেমন জিয়ানগর উপজেলার বালিপাড়ায় ছাপা পত্রিকা পৌছায় প্রতিদিন বিকাল ৫ টার দিকে।