শেখ হাসিনার হাত ধরেই দেশবাসী গণতন্ত্র ফিরে পায় : যুবলীগ চেয়ারম্যান

শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, ১১ জুন ২০০৮, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাসে অনন্য একটি দিন। বাংলাদেশের অবরুদ্ধ গণতন্ত্র মুক্তির পথ এদিন উম্মোচিত হয। ১১ মাস কারাভোগের পর মুক্তিপান গণতন্ত্রকন্যা রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা। শান্তির দূত শেখ হাসিনার হাত ধরেই এ দেশের মানুষ ১৯৭৫-এর পর ফিরে পেয়েছিল তাদের হারানো গণতন্ত্র। যখনই এ দেশের মানুষ অধিকার হারা হয়েছে, গণতন্ত্রহীন হয়েছে, তখনই গণতন্ত্রের সংগ্রামে ঝাপিয়ে পড়েছেন এই অকুতোভয় নেত্রী। বাংলাদেশে তাই ৭৫-এর পরবর্তী রাজনীতিতে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা হলেন গনতন্ত্রের সমার্থক, গনতন্ত্রের প্রতীক।
 
শনিবার যুবলীগ ঢাকা মহানগর যুবলীগ উত্তর ও দক্ষিন এর যৌথ উদ্যোগে গুলিস্তান মহানগর নাট্যমঞ্চে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তবে তিনি এ কথা বলেন।
 
যুবলীগ চেয়ারম্যান বলেন, ১১ জুন তাই কেবল গণতন্ত্রকন্যা, রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার মুক্তি দিবস নয়, ১১ জুন মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা দিবস। ১১ জুন জনগণের ক্ষমতায়নের দিবস। তার দূরদর্শী নেতৃত্বে আজ বাংলাদেশ উন্নয়নের পথে যে বিস্ময়কর সাফল্য অর্জন করেছে, সারা বিশ্বে তা প্রশংসিত হয়েছে। উন্নয়নের এই অগ্রযাত্রায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অংশ নিয়ে সোনার বাংলা গড়ে তুলতে অবদান রাখতে হবে।
 
দেশের বিরুদ্ধে গোপনে ষড়যন্ত্র করে আওয়ামী লীগকে শূন্য করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন,  শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য ১৯ বার চেষ্টা করেছে বিএনপি-জামায়াত। কিন্তু দেশবাসীর দোয়া এবং মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অশেষ রহমতে তিনি বার বার ষড়যন্ত্রকারীদের কবল থেকে রক্ষা পেয়েছেন।
 
২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে বিএনপি-জামায়াত দেশে জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটিয়ে একের পর এক নেতাদের হত্যা করে আওয়ামী লীগকে নির্মূল করতে চেয়েছিল বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী|
 
যুবলীগ চেয়ারম্যান বলেন, রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার ৩৬ বছরের রাজনৈতিক নেতৃত্বের ইতিহাসে জেল-জুলুম ও হত্যাপ্রচেষ্টা মোকাবিলা করেই সামনের দিকে এগিয়ে গেছেন। এই সময়ে তিনি একাধিকবার কারাবরণ করেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রতিকুলতা ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হয় ২০০৭ সালে গ্রেফতারের পর। এবার তাকে রাজনীতি থেকে চিরতরে বিদায় করে দেয়ার ষড়যন্ত্র করা হয়। তিনি তার বিচক্ষণ, দূরদর্শি ও কূটনৈতিক মেধার মাধ্যমে সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে কারাপ্রাচীর ভেঙ্গে নিজে মুক্ত হন এবং একইসাথে সমগ্র জাতিকে ভবিষ্যত অন্ধকার থেকে মুক্ত করেন এবং একটি স্বচ্ছ নির্বাচনের মধ্যদিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন। সেদিনের সেই ষড়যন্ত্রকারিরা আজও তৎপর। ওদের ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতায়ই ২০১৪-২০১৫ সালে রাজপথে জ্বালাও-পোড়াও এবং অগ্মিসংযোগে মানুষ হত্যা করেছে। এই ষড়যন্ত্রে ব্যর্থ হয়ে আজ আবার দেশকে অস্থিতিশীল করতে একের পর এক গুপ্তহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে। দেশের নিরীহ মানুষ হত্যার পাশাপাশি বিদেশি নাগরিকদের হত্যা করে দেশকে নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সেদিনের ষড়যন্ত্রকারীরা গা ঢাকা দিলেও তাদের রাজনৈতিক নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নবরুপে আজকে ষড়যন্ত্রের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে হাজির হয়েছেন।
 
খালেদা ভেবেছিল বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ  নেতাদের হত্যা করে বাংলাদেশকে আওয়ামী লীগ শূন্য করা যাবে। তাদের সে আশা পূরণ হয়নি। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব নিয়েছেন। এর ধারাবাহিকতায় আজকে বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে একটি রোল মডেল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
 
যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের সভাপতিত্বে এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন-এর পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো: হারুনুর রশীদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য শহীদ সেরনিয়াবাত, মজিবুর রহমান চৌধুরী, ফারুক হোসেন, মাহবুবুর রহমান হিরন, আবদুস ছাত্তার মাসুদ,আতাউর রহমান, অধ্যাপক এবিএম আমজাদ হোসেন, আনোয়ারুল ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক সুব্রত পাল, সাংগঠনিক সম্পাদক বদিউল আলম, ফজলুল হক আতিক, আসাদুল হক আসাদ, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য কাজী আনিসুর রহমান, মিজানুল ইসলাম মিজু, ইকবাল মাহমুদ বাবলু, শ্যাম কুমার রায়, রবিউল আলম, তাজউদ্দিন, রফিকুল ইসলাম, জোবায়েদুল হক রাসেল, কেন্দ্রীয় নেতা রওশন জামির রানা, মনিরুল ইসলাম হাওলাদার, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি আলহাজ্ব মাঈনুল হোসেন খাঁন নিখিল, সহসভাপতি আবু জাফর, সাংগঠনিক সম্পাদক খায়রুল উদ্দিন আহমেদ, সিদ্দিক বিশ্বাস,শাহাদাত হোসেন সেলিম, ঢাকা মহানগর দক্ষিনের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা, সহসভাপতি সরোয়ার হোসেন মনা, আনোয়ার ইকবাল সান্টু, মোরসালিন আহমেদ, হারুন অর রশীদ,যুগ্ম সম্পাদক জাফর আহমেদ রানা, ওমর ফারুক, সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান বকুল, মাকসুদুর রহমান, দফতর সম্পাদক এমদাদুল হক এমদাদ, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ মার্শীদ শুভ প্রমুখ।
 
আলোচনা সভা শেষে  শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু কামনা করে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মাওলানা খলিলুর রহমান দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন ।
 
এর আগে সকাল ৯টায় ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন যুবলীগ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুকের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয়,মহানগর ও মহানগর অন্তভুক্ত সকল ইউনিট সমুহের নেতৃবৃন্দ।
 
রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে দুপুর আড়াইটার গণভবনে শেখ হাসিনাকে যুবলীগ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরীর নেতৃত্বে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মো: হারুনুর রশীদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য শহীদ সেরনিয়াবাত, মজিবুর রহমান চৌধুরী, ফারুক হোসেন, মাহবুবুর রহমান হিরন, আবদুস ছাত্তার মাসুদ,আতাউর রহমান, অধ্যাপক এবিএম আমজাদ হোসেন, আনোয়ারুল ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক সুব্রত পাল, সাংগঠনিক সম্পাদক বদিউল আলম, আসাদুল হক আসাদ, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য কাজী আনিসুর রহমান, মিজানুল ইসলাম মিজু, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি আলহাজ্ব মাইনুল হাসান খাঁন নিখিল, সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিন যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা প্রমুখ।