‘অপকর্ম দেখে ফেলায় শিশু সন্তান হত্যা’

বখাটেদের সঙ্গে অসামাজিক কর্মে লিপ্ত থাকা অবস্থায় দেখে ফেলায় নিজের শিশু সন্তান হাসমি মিয়াকে (৯) গলা কেটে হত্যা করা হয়। হত্যার পর গুমের উদ্দেশ্যে লাশ সিমেন্টের বস্তায় ভরে খুলনা বাইপাস সড়ক সংলগ্ন সরদার ডাঙ্গা বিলের মধ্যে ফেলে দেয়া হয়।
 
হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার ঘাতক মা সোনিয়া বেগম আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ তথ্য দিয়েছেন। শনিবার বিকেলে খুলনা মহানগর হাকিম ফারুক ইকবালের আদালতে এ জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
 
স্বীকারোক্তির উদ্ধৃতি দিয়ে আড়ংঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাসিম খান বলেন, ৬ জুন রাতে শিশু হাসমি মিয়ার মা সোনিয়া বেগম বখাটে যুবক নুরুন্নবী (২০) ও রসুলের (২২) সঙ্গে সরদার ডাঙ্গা বাগানের (বাঁশঝাড়) মধ্যে অপকর্মে লিপ্ত হন। এ সময় তার সন্তান হাসমি ঘটনা দেখে ফেলায় তাৎক্ষণিকভাবে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। সে মোতাবেক মায়ের সামনেই নুরুন্নবী ধারালো ছুরি দিয়ে হাসমিকে জবাই করে। হত্যার পর ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার জন্য ওই রাতেই লাশ সিমেন্টের বস্তায় ভরে খুলনা বাইপাস সড়ক সংলগ্ন সরদারডাঙ্গা বিলের মধ্যে ফেলে দেয়া হয় বলে তিনি স্বীকার করেছেন।
 
পরদিন ঘটনাটি সোনিয়া তার প্রেমিক আসাদুজ্জামান আসাদকে জানান। আসাদ কেসিসির ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুস সালামের ভাই। পুলিশ তাকেও গ্রেপ্তার করেছে।
 
পুলিশ জানায়, ২০০৬ সালে মানিকতলার জাহাঙ্গীর হোসেন খানের মেয়ে সোনিয়ার সঙ্গে হাফিজুর রহমানের বিয়ে হয়। এর ৬ মাস পর হাফিজুর রহমান বিদেশে চলে যান। স্বামীর অনুপস্থিতিতে সোনিয়া উচ্ছৃংখল হতে থাকেন। তিনি বিভিন্ন যুবকের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। স্বামী হাফিজুর রহমান দেশে আসার পর বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর হাফিজুর রহমান স্ত্রীকে শোধরানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে গত ৬ মাস আগে তাকে তালাক দেন।
 
এদিকে তালাকের পরও গত ৬ জুন সোনিয়া তাদের দুই সন্তান হাসমি ও হাসফির মধ্যে বড় ছেলে হাসমিকে স্বামীর কাছ থেকে নিজের কাছে নিয়ে আসেন। উদ্দেশ্য ছিল ছেলে হাসমিকে গুম করে স্বামীর কাছ থেকে অর্থ আদায় করা। কিন্তু বিষয়টি অন্যদিকে চলে যায় বলেও সোনিয়া আদালতে স্বীকার করেছেন।
 
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আড়ংঘাটা থানার এসআই মো. মিজানুর রহমান জানান, সোনিয়ার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
 
এদিকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার দুপুরে লাশ বাবা হাফিজুর রহমান মিয়ার কাছে হস্তান্তর করা হয়। জানাজা শেষে বিকেলে তাকে স্থানীয় মহেশ্বরপাশা কবরস্থানে দাফন করা হয়।
 
নগরীর আড়ংঘাটা থানার কাত্তিকুল সরদারডাঙ্গা এলাকার মো. হাফিজুর রহমানের শিশুপুত্র হাসমি নিখোঁজের  ৩ দিন পর খুলনা বাইপাস সড়ক সংলগ্ন সরদারডাঙ্গা খাল থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় গত ৯ জুন পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. হাফিজুর রহমান বাদী হয়ে ৩ জনকে আসামি করে আড়ংঘাটা থানায় মামালা দায়ে করেন।