ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার চরহরিরামপুর ইউনিয়নের চরশালেপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী গণধর্ষণের শিকার হয়েছে।
তারা সম্পর্কে মামাতো-ফুপাতো বোন। এ ছাড়া ধর্ষণের ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, গত ১৪ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় দুই বোন তাদের এক আত্মীয়ের বাড়ি আমির খার গ্রামে যাওয়ার জন্য বের হয়। তারা ওই এলাকার ফ্লাট সেন্টারের ভিটির সামনে পৌঁছালে তিনটি মটরসাইকেলে পাঁচ যুবক তাদের গামছা দিয়ে মুখ বেঁধে মোটরসাইকেলে উঠিয়ে একটি ভুট্টা ক্ষেতে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পাঁচজনে মিলে ধর্ষণ করে। এ সময় বখাটেরা ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে। পরে ঘটনা চেপে যাওয়ার জন্য ওই পরিবারের কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা না দিলে ধর্ষণের ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়ার হুমকি প্রদান করে তারা।
সুত্র জানায়, উক্ত ঘটনা এলাকার মাতুব্বররা আপোস করার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু দীর্ঘ দুই মাস পার হলেও মাতুব্বররা মিমাংসা দেয় না । এদিকে বখাটেরা চাঁদা না পেয়ে ধর্ষণের ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়। ভিডিওটি মোবাইলে ছড়িয়ে পড়লে অসহায় পরিবার ফরিদপুর নারী ও শিশু দমন বিশেষ আইন মামলা দায়ের করেন। আদালত চরভদ্রাসন থানাকে মামলাটি নথিভুক্ত করে দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার বিবরণীতে জানা যায়, চরশালেপুর গ্রামের বাদশা খানের পুত্র উজ্জল খানের (২৫) নেতৃত্বে শুকুর আলী সিকদার (২৬), সিরাজ শেখ (২৫), ইলিয়াস ব্যাপারী (২০) ও শফি মোল্যা (২৫) ওই দুই বোনকে স্কুলে আসা যাওয়ার পথে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করতো। বিষয়টি ওই যুবকদের পরিবারে জানালে তারা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। ঘটনার দিন পহেলা বৈশাখ দুই বোন আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার পথে ওই পাচঁ বখাটে দুই বোনকে মোটরসাইকেলে উঠিয়ে ভুট্টা ক্ষেতে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে ও তা ভিডিও ধারন করে রাখে।
এ ব্যাপারে চরভদ্রাসন থানার অফিসার ইনচার্জ রামপ্রসাদ ভক্ত বলেন, আদালতের নির্দেশে শনিবার চরভদ্রাসন থানাতে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। যার নং-৪ তাং ১১/০৬/২০১৬ইং। মেয়ে দুটিকে রবিবার স্বাস্থ্য পরিক্ষার জন্য ফরিদপুর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হবে।