অপরিচ্ছন্ন, নোংরা পরিবেশে অবৈধ, নিম্নমানের উপাদান দিয়ে দুধ ও দুগ্ধপণ্য ও বিএসটি আই এর অনুমোদনবিহীন লজেন্স তৈরির অপরাধে দুটি প্রতিষ্ঠানকে মোট সাড়ে চার লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত।
সোমবার দিনব্যাপী ঢাকা জেলা প্রশাসন, এপিবিএন ও বিএসটি আই, এর যৌথ উদ্যোগে রাজধানীর খিলখেত এলাকায় এ ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হয়। ঢাকা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদ এলাহী জানান, খিলখেত বরুয়া এলাকায় আরএসএফ এগ্রো ফুড প্রোডাক্টস ঢাকা প্রাইম ব্রান্ডের পাস্তুরিত দুধ ও দুগ্ধপণ্য তৈরি ও বিক্রয় করে আসছে।
অভিযানে দেখা যায় প্রতিষ্ঠানটিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দুধ ও অন্যান্য পণ্য যেমন দই, ঘি, লাবাং, ফ্লেভার্ড মিল্ক , পাস্তুরিত দুধ উৎপাদন করছে। তরল দুধ তৈরিতে গরুর দুধের পরিবর্তে পাউডার দুধ ব্যবহার করছে। দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এসব পণ্যে নিয়মিত বায়োকেমিক্যাল ও অনুজীববৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে মান নিয়ন্ত্রণের বিধান থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি এসব কোন কিছুই না করে বিপুল পরিমাণ দুধ ও দুগ্ধপণ্য বাজারজাত করছে।
গত কয়েকমাসের কোন ধরণের পরীক্ষার ফলাফল দেখাতে পারেনি। কর্মচারীদের কারো এপ্রোন, গ্লাভস, মাস্ক, ক্যাপ ব্যবহার করতে দেখা যায়নি। যা স্বাস্থ্য বিশেষ করে শিশুস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরুপ।
অপরদিকে এইচবি ফুড ও বেভারেজ লিমিটেড, তলনা খিলখেত এলাকা বিএসটি আই এর অনুমোদন ব্যাতিরেকে ফ্রুটি লজেন্স তৈরি করে আসছে এবং অবৈধভাবে তাতে বিএসটিআই এর লোগো ব্যবহার করে জনগণকে প্রতারিত করে আসছে।
সার্বিক বিবেচনায়, ঢাকা প্রাইম মিল্কের স্বতাধিকারী আরএসএফ এগ্রো ফুড প্রোডাক্টস এর মালিককে দুইলাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে দুইমাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও এইচবি ফুড ও বেভারেজ লিমিটেডের মালিককে আড়াই লাখ টাকা, অনাদায়ে তিনমাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
এপিবিএন হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মোরতোজা আলী খাঁন জানান, প্রতিষ্ঠানদুটিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নজরদারি করার পর প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। প্রায় লক্ষাধিক টাকা মূল্যমানের বিপুল পরিমানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে উৎপন্ন দুগ্ধ পণ্য ও লজেন্স জব্দ করে জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়।
রমজান ও ঈদ উপলক্ষ্যে এ ধরণের খাদ্য ও খাদ্যদ্রব্য উৎপন্নকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে কড়া নজরদারীর মধ্যে রেখে অভিযান অব্যাহত রাখা হবে।
অভিযান শেষে প্রতিষ্ঠানদুটোকে স্বাস্থ্যকর উপায়ে পাস্তুরিত দুধ ও দুগ্ধপণ্য এবং লজেন্স প্রস্তুতের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন বিএসটিআই ফিল্ড অফিসার মো. খাইরুল ইসলাম।