মক্কার কাবা শরিফ ও আল মদিনার মসজিদে নববী রক্ষায় প্রয়োজনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে পাঠানো হবে। তবে সৌদির নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সৌদি সরকার চাইলে বাংলাদেশ সরকার ওই কাজে সেনা দল পাঠাতে প্রস্তুত এমন প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সৌদি সরকারকে দিয়েছেন।
গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি তার সৌদি সফরের বিষয়ে এ তথ্য জানান। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এ কথা জানান। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণ ব্যয় বাড়ছে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের এমন প্রশ্নে পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মোস্তাফা কামাল আপত্তি করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, দেশের দক্ষিণাঞ্চলেও পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র হবে। প্রধানমন্ত্রীর এই কথাতেই আটকে যায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্রের ব্যয় সম্পর্কিত প্রশ্ন।
মন্ত্রিসভার বৈঠক জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে সভাপতিত্ব করেন। মন্ত্রিসভার সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম এনডিসি ও সংশ্লিষ্ট সচিবরা এতে উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব সাংবাদিকদের বলেন, বৈঠকে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর আইন ২০১৬-এর খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এত দিন দেশে বিএনসিসির কোনো আইনি কাঠামো ছিল না। নতুন এই আইনের আওতায় বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর অধিদপ্তর গঠন করা হবে। এর প্রধান হবেন একজন মহাপরিচালক এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের নেতৃত্বে উপদেষ্টা কমিটি থাকবে। নির্ধারিত যোগ্যতা থাকা স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জুনিয়র ও সিনিয়র ডিভিশনের ক্যাডেট হিসেবে তালিকাভুক্ত হতে পারবেন।
১৯৫০ সালের একটি সার্কুলারের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে বিএনসিসি পরিচালিত হচ্ছিল। কোনো পূর্ণাঙ্গ আইন ছিল না। একে আইনি কাঠামো দিতেই নতুন আইন করা হচ্ছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সৌদি সামরিক জোটে সেনা পাঠানোর বিষয়ে কোনো কথা হয়নি। কেবল পবিত্র মক্কা ও মদিনা শরীফ রক্ষায় সেনা পাঠানোর কথা বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরব যে ৫ লাখ শ্রমিক নেওয়ার কথা, তা এই বছর থেকে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান।
তিনি বলেন, সৌদি আরবে প্রবাসীরা ‘আকামা’ নিয়ে যাওয়ার পর তারা যে কোম্পানি কিংবা যে ব্যক্তির অধীনে গেছেন, তার বাইরে চাকরি করতে পারতেন না। এখন থেকে আকামা নিয়ে প্রবাসীরা চাহিদা মতো যে কোনো স্থানে চাকরি করতে পারবেন। প্রধানমন্ত্রী সৌদি সফরে গিয়ে সৌদি সরকারের সঙ্গে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।