ফুটবল সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বন্ধে মদ বিক্রি বন্ধ রাখার উদ্যোগ নিয়েছে ফ্রান্স। ফুটবল খেলা হবে এমন মাঠের কাছে এবং সমর্থকদের অবস্থান নেয়া এলাকাগুলোতে মদ বিক্রি বন্ধে ইতোমধ্যেই শহর কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানিয়েছে ফরাসি সরকার। ফ্রান্সে চলমান ইউরো-২০১৬ ফুটবল টুর্নামেন্টে বিভিন্ন দেশের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের পরিপ্রেক্ষিতে এই ব্যবস্থা নেয়া হলো। এদিকে মার্সেইতে ইংল্যান্ড ও রাশিয়ার ম্যাচ নিয়ে সহিংসতার ‘পেছনে’ দেড়শজন রুশ দায়ী বলে জানিয়েছেন ফরাসি তদন্তকারীরা।
মদ বিক্রি বন্ধের বিষয়ে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বার্নার্ড কাজেনুভা বলেন, ফুটবল ম্যাচের দিন এবং এর একদিন আগে থেকেই ম্যাচ অনুষ্ঠানের মাঠ সংলগ্ন এলাকায় মদ বিক্রি, পরিবহন ও পান বন্ধ রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। নিষিদ্ধের আওতায় থাকবে জনসমাগম হয় এমন কোনো স্থান এবং দোকানপাট। এছাড়া শহরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা চাইলে যেকোনো পানশালায় মদ বিক্রি বন্ধ করে দিতে পারবেন। কাজেনুভা বলেন, মার্সেই নগরের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কর্তৃপক্ষ, সমাজ ও ফুটবল সমর্থকসহ সবার কাছেই এটি অগ্রহণযোগ্য। প্রসঙ্গত, ইউরো চ্যম্পিয়নশিপের ফুটবল ম্যাচ ঘিরে শুধু মার্সেই নগরীতেই পর পর তিনদিন সংঘর্ষ হয়েছে। ইংল্যান্ড-রাশিয়া ম্যাচ ঘিরে দুই দেশের সমর্থক ও পুলিশের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়ে হাসপাতালেও আশ্রয় নিয়েছেন।
এদিকে ওই সহিংসতার ‘পেছনে’ দেড়শজন রুশ দায়ী বলে জানিয়েছেন ফরাসি তদন্তকারীরা। মার্সেইর তদন্তকারী ব্রাইস রবিন বলেন, মারামারির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ব্রিটেনের ছয়, ফ্রান্সের তিন এবং অস্ট্রিয়ার একজন নাগরিকসহ দশজনকে তাত্ক্ষণিক বিচারের সম্মুখীন করা হয়েছে। তবে দেড়শজনকে দায়ী করলেও রাশিয়ার মাত্র দুইজন নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে তিনি জানান। এক সংবাদ সম্মেলনে রবিন বলেন, ‘এই মানুষগুলো অতিদ্রুত চরম সহিংস কাজের জন্য ভালোভাবে প্রস্তুত ছিল। তারা দারুণভাবে সম্পূর্ণ প্রশিক্ষিত লোক।’ সহিংসতার অভিযোগে দুই রুশ নাগরিককে ফ্রান্স থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন। এরই মধ্যে ইংল্যান্ড ও রাশিয়ার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা। পরবর্তীতে এরকম সংঘর্ষ ঘটলে দুই দলকেই টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়ার হুমকিও দিয়েছে উয়েফা। ব্রিটেনের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, আগামী বৃহস্পতিবার লেন্স শহরে অনুষ্ঠেয় ইংল্যান্ডের ম্যাচে দেশটির পক্ষ থেকে পুলিশ পাঠানোর প্রস্তাবও দেয়া হয়েছে।