নরসিংদী পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির টিএনটি ফিডারে বিপর্যয় দেখা দেয়ায় জেলা শহরের মূল অংশে ২০ ঘন্টা বিদ্যুত্ সরবরাহ বন্ধ ছিল। এর কারণ বের হওয়ার আগেই সোমবার রাত একটায় পুনরায় লাইন চালু হয়ে গেছে। তবে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত ফিডারটিতে বিদ্যুত্ সরবরাহ স্বাভাবিক হচ্ছে না। একবার বন্ধ হচ্ছে আবার চালু হচ্ছে।
গত ১ জুন গ্রিড বিপর্যয়ের কারণে দীর্ঘ ৩০ ঘন্টা সারা নরসিংদী বিদ্যুত্ সরবরাহ বন্ধ থাকার পর আবারো এই ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দিল। এই বিদ্যুত্ বিপর্যয়ের কারণে বড় বড় বহুতল ভবনসহ শহরের বাসিন্দারা দিন রাত ২০ ঘন্টা অন্ধকারে পড়ে থাকে। এতে মূল শহরে ব্যাংকিং ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ে। পবিত্র রমজান মাসে হাজারো রোজাদার মানুষ ভয়াবহ পানি সমস্যার সম্মুখীন হয়। শহরের শপিংমলগুলোতে বেচাকেনা বন্ধ হয়ে যায়। আবাসিক ভবনের বাসিন্দারা সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হয়। বাইরে থেকে শহরে মামলামাল আমদানী রফতানিতে মারাত্মক অচল অবস্থার সৃষ্টি হয়। শহরের লোকজন বার বার পল্লী বিদ্যুত্ কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেও বিপর্যয়ের কারণ সর্ম্পকে কোন তথ্য জানতে পারেনি। পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির কোন কর্মকর্তাই কি কারণে ফিডার বিপর্যয় ঘটেছে তা নিশ্চিত করে বলতে পারেনি। জানা গেছে, সোমবার সকাল ১০টায় হঠাত্ পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির টিএনটি ফিডার ট্রিপ করে। একেক করে কয়েক ঘন্টা কেটে যাবার পর যখন আইপিএসগুলো সব অচল হয়ে যায় তখন লোকজন পল্লী বিদ্যুত্ কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ শুরু করে। পল্লী বিদ্যুত্ কর্তৃপক্ষ জানায় কোথায় কি হয়েছে তা তারাও বলতে পারছে না। ভোরে হঠাত্ ফিডারটি চালু হয়। কোথায় কি ধরনের গোলযোগের কারণে টিএনটি ফিডারে এত দীর্ঘ বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছিল তা জানতে যোগাযোগ করা হয় সমিতির একজন ডিজিএম’র সাথে। তিনি জানান, এক অভিনব ঘটনার কথা। সকাল ১০ টায় হঠাত্ লাইন ফিডারটি ট্রিপ করার পর অনুসন্ধান শুরু করা হয়। পাওয়ার স্টেশন থেকে শুরু করে সরবরাহ লাইনের অলিগলি সর্বত্রই অনুসন্ধান চালানো হয়। কিন্তু কোথাও কোন গোলযোগের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। পরে পল্লী বিদ্যুতের ওএন্ডএম বিভাগ ফিডারের সরবরাহ লাইন আংশিকভাবে কেটে অনুসন্ধান করতে থাকে। এরপরও কোথাও কোন গোলযোগের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। লাইন কেটে কেটে চূড়ান্ত পর্যায়ে গিয়ে ফিডার চালু করলে হঠাত্ ফিডারটি চালু হয়ে যায়। চালু হবার পরও পল্লী বিদ্যুত্ কর্তৃপক্ষ গোলযোগের কারণ জানতে পারেনি। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় বিদ্যুত্ প্রকৌশলীদের সাথে যোগাযোগ করলে তারা ঘটনাটি হাস্যকর বলে উড়িয়ে দেয়। তারা জানায় এটা পল্লী বিদ্যুত্ কর্তৃপক্ষের মেকানিকেল সেকশনের অদক্ষতারই পরিচায়ক। লাইন কিংবা সরবরাহ স্টেশনে কোন গোলযোগ দেখা দিলে পল্লী বিদ্যুত্ কর্তৃপক্ষ কোন দিনই ৪/৫ ঘন্টার নিচে গোলযোগের ক্ষেত্র চিহ্নিত করতে পারেনি। গত ১ জুন গ্রীড বিপর্যয়ের পর সারা নরসিংদী জেলা দীর্ঘ ৩০ ঘন্টা বিদ্যুত্হীন অবস্থায় পতিত হয়। হাজার হাজার শিল্প কারখানা কোটি কোটি টাকার উত্পাদন ঘাটতি দেখা দেয়। সাধারণ গ্রাহকরা শিকার হয় সীমাহীন দুর্ভোগের। আর এই গ্রীড মেরামত করতে পল্লী বিদ্যুত্ কর্তৃপক্ষ তথা পিজিসিবি’র সময় লাগে দীর্ঘ ৩০ ঘন্টা। এরপর দীর্ঘ ৩০ ঘন্টা পরও বিদ্যুত্ সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়নি। একটার পর একটা গোলযোগ লেগেই রয়েছে। এব্যাপারে বুয়েটের একজন বিদ্যুত্ প্রকৌশলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এটা কোন অতি প্রাকৃতিক বা ভৌতিক ঘটনা নয়। কোথাও কোন সংযোগ কনট্রাক্টহীন হয়ে পড়ার কারণে এ ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। যা সরবরাহ ব্যবস্থার উপর পল্লী বিদ্যুত্ কর্তৃপক্ষ যথার্থ নজরদারী না থাকায় কিংবা যথার্থ দক্ষতার অভাবে এটা হয়ে থাকতে পারে। তবে এসব ঘটনা যেহেতু বার বারই জন দুর্ভোগের সৃষ্টি করছে এবং সরকারও বিপুল পরিমান রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সেহেতু এসব ঘটনা উর্ধতন কর্তৃপক্ষের তদন্ত করা উচিত্।