আষাঢ় এলেই মেঘের শ্যামল মায়ায় মাটির টান টের পায় বাংলার মানুষ। সময়ের পরিক্রমায় এসেছে বর্ষা। এসেছে প্রকৃতিতে সবুজের সতেজ স্পর্শ ছড়িয়ে দিতে। গতকাল বুধবার ছিল পহেলা আষাঢ়। সকালে বাংলা একাডেমির নজরুল মঞ্চে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী ঢাকা মহানগর সংসদ আয়োজন করে বর্ষা উত্সবের। গানে কথায় প্রকৃতি রক্ষা আর লোকজ উত্সবকে সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করলেন শিল্পীরা।
অনুষ্ঠান শুরু হয় যন্ত্রসঙ্গীত শিল্পীদের সমবেত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে। আবহমান কাল ধরে বাংলার সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ ঢোল, তবলা, দোতরা, বাঁশি প্রভৃতি যন্ত্রের সমন্বয়ে পরিবেশিত হয় ‘আল্লাহ মেঘ দে, পানি দে, ছায়া দে রে তুই’ গানটি। এরপর শুদ্ধ শাস্ত্রীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন গুণী শিল্পী প্রিয়াঙ্কা গোপ। সকালের শুভ্র প্রকৃতিতে প্রিয়াঙ্কার অনবদ্য গায়কীর শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণে অসাধারণ আবহ তৈরি হয়। মঞ্চে দলীয় পরিবেশনা নিয়ে উপস্থিত হয় উদীচী ধানমন্ডি শাখা। উত্সবে দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন অগ্নিবীণা ও ফোক বাংলা’র শিল্পীরা। একক সঙ্গীত পরিবেশনে ছিলেন দেশের প্রথিতযশা শিল্পী মহাদেব ঘোষ, অনিমা মুক্তি গোমেজ, বুলবুল ইসলাম, বিমান বিশ্বাস, বিজন চন্দ্র মিস্ত্রী, জিনাত ফেরদৌস, নৃপেন মিস্ত্রী, সাজেদা বেগম সাজু, শেলী রউফ প্রমুখ। আবৃত্তি পরিবেশন করেন জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, বেলায়েত হোসেন, শিখা সেন গুপ্তা প্রমুখ। নৃত্য পরিবেশন করে নৃত্যম ও স্পন্দন-এর মতো নৃত্যদল। বর্ষা উত্সবে মাহমুদ সেলিমের গ্রন্থনা ও নির্দেশনা এবং বিপ্লব রায়হানের পরিচালনায় বিশেষ গীতি-আলেখ্য “বৃষ্টি পরে টাপুর টুপুর” পরিবেশন করেন উদীচী ঢাকা মহানগর সংসদের শিল্পীরা। এ ছাড়াও, ছিল বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর মিরপুর, বাড্ডা, তুরাগ, কাফরুল ও নবাবগঞ্জ শাখার শিল্পীদের পরিবেশনা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলামসহ বিভিন্ন বিখ্যাত কবি-সাহিত্যিকদের গান, কবিতা এবং লোকগানের পরিবেশনায় মুখরিত হয়ে ওঠে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ। প্রথা অনুযায়ী, প্রতিটি পরিবেশনা শেষে শিল্পী এবং দলগুলোকে উদীচীর পক্ষ থেকে গাছ উপহার দেওয়া হয়। প্রকৃতি রক্ষার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বর্ষা উত্সব আয়োজনের শুরু থেকেই অতিথিদের গাছ উপহার দিয়ে আসছে উদীচী।
অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে আয়োজিত হয় বর্ষা কথন। এতে অংশ নেন উদীচীর কেন্দ্রীয় সভাপতি কামাল লোহানী, সহ-সভাপতি শংকর সাওজাল এবং উদীচী ঢাকা মহানগর সংসদের সভাপতি কাজী মোহাম্মদ শীশ। এ পর্বটি সঞ্চালনা করেন ইকবালুল হক খান ইকবাল।