পাহাড়ি ঢলে শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। অন্যদিকে ভারী বর্ষণে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় নিমজ্জিত হয়েছে পাট ক্ষেত, আমনের বীজতলা।
শেরপুর প্রতিনিধি জানান, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী গারো পাহাড় এলাকার ঝিনাইগাতি উপজেলার মহারশি নদীর পানি উপচে আশপাশের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া উপজেলা সদরের ঝিনাইগাতি বাজার এবং উপজেলা পরিষদের পাশ দিয়ে প্রবল বেগে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। ফলে যে কোনো সময় তলিয়ে যেতে পারে উপজেলা কম্পাউন্ড ও উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ভবনের মাঠ।
এলাকাবাসী জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে হঠাত্ করেই ঝিনাইগাতি বাজার সংলগ্ন মাহারশি নদীতে পানি বৃদ্ধি পেতে থাকে। এক পর্যায়ে বেলা আড়াইটার দিকে নদী উপচে আশেপাশের নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করতে শুরু করে। এই পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাতের মধ্যেই উপজেলার প্রায় অর্ধশত গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় অধিবাসীরা।
সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) সংবাদদাতা জানান, উপজেলায় দুই দিনের ভারী বর্ষণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। নিমজ্জিত হয়েছে পাট ক্ষেত, আমনের বীজ তলা। গত মঙ্গলবার ও বুধবার অবিরাম ভারী বর্ষণে পানির ঢলে সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার আওতাধীন বালাপাড়া নামক স্থানে মীরগঞ্জ-ইমানগঞ্জ পাকা রাস্তার ২০ ফুট পরিমাণ ধসে পড়ায় তারাপুর ইউনিয়নের সঙ্গে উপজেলার যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে গেছে। এছাড়া কোথাও কোথাও চলাচলে রাস্তা তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। গ্রামাঞ্চলের অনেক রাস্তা-ঘাট তলিয়ে গেছে। চরাঞ্চলসহ নিম্নাঞ্চলের পাট ক্ষেত ৩/৪ ফুট পানির নিচে চলে গেছে। আগাম বর্ষালী ধান ক্ষেতগুলো নিমজ্জিত হয়েছে। পানিতে ডুবে যাওয়ায় শতাধিক পুকুরের মাছ বেরিয়ে গেছে। বীজতলা, বর্ষালী, সবজি ক্ষেত ও পাট নিমজ্জিত হওয়ায় কৃষক দিশেহারা হয়ে পড়েছে। নিম্নাঞ্চলগুলোতে জমে যাওয়া পানি প্রয়োজনীয় নালা না থাকায় বেরিয়ে যেতে পারছে না। তিস্তা নদীর পানিও পাল্লা দিয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া সুন্দরগঞ্জ-রংপুর গ্রামীণ হাইওয়ে সড়কের বামনডাঙ্গা হল মোড়ের কাছে রাস্তার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।