মেঘনায় গত দু’দিন ধরে জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ছে। এ খবরে উপকূলীয় জেলে পল্লীতে ঈদের আগেই উত্সবের আমেজ লক্ষ্য করা গেছে। ইতোমধ্যে উপজেলার খাসেরহাট, মোল্লারহাট, পানিরঘাট, হাজিমারা ও পুরাতন বেড়ি এলাকার ঝিমিয়ে পড়া মত্স্য আড়তসহ বরফ কলগুলো সরগরম হয়ে উঠেছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকারি ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে।
স্থানীয় মত্স্য ব্যবসায়ী ও জেলেরা জানান, উপকূলীয় এ এলাকায় প্রায় ১০ হাজার জেলে ও মত্স্য আড়তদার রয়েছে। জ্যৈষ্ঠের শুরু থেকে ইলিশ মৌসুম শুরুর হলেও মেঘনায় ইলিশের দেখা তেমন মেলেনি। ফলে হাজার হাজার জেলে হতাশায় ভুগছিল। বর্তমানে ৮শ’ গ্রাম থেকে এক কেজি সাইজের ইলিশের মণ বিক্রি হচ্ছে ২৮ থেকে ৩০ হাজার টাকায়। যা এর আগে বিক্রি হয়েছে ৪২ থেকে ৪৫ হাজার টাকা দরে। এ ছাড়া ৫’শ থেকে ৬’শ গ্রাম সাইজ ইলিশের মণ বিক্রি হচ্ছে ২২ হাজার থেকে ২৩ হাজার টাকায়। যা এর আগে বিক্রি হয়েছে ৩০-৩২ হাজার টাকা দরে। ৩০০ থেকে ৫০০ গ্রাম সাইজ ইলিশের মণ বিক্রি হচ্ছে ১৪ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকায়, যা আগে বিক্রি হয়েছে ২৫ থেকে ২৬ হাজার টাকা দরে।
অন্যদিকে, ইলিশ ধরা পড়ায় রায়পুর উপজেলার বাজারগুলোতে ইলিশ উঠছে প্রচুর। বর্তমানে খুচরা বাজারে এর দাম অর্ধেকে নেমে এসেছে। এক মাস আগে যে ইলিশ দেড় হাজার টাকায় কেজি বিক্রি হয়েছে, বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে ৮শ’ টাকা কেজি দরে।
রায়পুর মত্স্যজীবী সমিতির সভাপতি মোস্তফা বেপারী বলেন, একটু দেরি হলেও সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ঈদের আগেই গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে নদীতে ইলিশ ধরা পড়তে শুরু করেছে। প্রতিটি ট্রলারের জেলেরা ১ থেকে ২ লাখ টাকার ইলিশ শিকার করতে সক্ষম হয়েছে।
উপজেলার সিনিয়র মত্স্য কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন বলেন, জেলে পল্লীগুলোতে ঈদের আগেই উত্সবের আমেজ চলছে। এসময় জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ায় ঈদ উত্সব ভালোই কাটবে। এছাড়াও মত্স্য সংরক্ষণ আইন যথাযথ বাস্তবায়ন ও জাটকা বিরোধী সফল অভিযানসহ প্রশাসনের তদারকির কারণে এবার ইলিশের উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়াবে আশা করেন এ কর্মকর্তা।