ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে সালিশ বৈঠকে কটুক্তির জের ধরে দুপক্ষের সংঘর্ষে কমপক্ষে অর্ধশত আহত হয়েছেন।
সংঘর্ষের সময় সরাইল-নাসিরনগর আঞ্চলিক সড়ক প্রায় আড়াই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। পুলিশ টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত শুক্রবার সকালে বালিকা বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ সংলগ্ন স্থানে নতুন মার্কেট নির্মাণের কাজ করছিল শ্রমিকরা। দোকানের সামনে মাটি ফেলাকে কেন্দ্র করে উচালিয়া পাড়ার বাসিন্দা রিফাত মিয়ার (১৭) সঙ্গের নির্মাণ শ্রমিক মোঘলটুলা গ্রামের শফিক মিয়ার (১৮) কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য শনিবার সকালে বালিকা বিদ্যালয়ে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিদ্যালয়ের সভাপতি রফিক উদ্দিন ঠাকুরের সভাপতিত্বে সালিশ বৈঠক চলাকালে কুট্টাপাড়া গ্রামের এক যুবকের কটুক্তিকে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরে উভয় গ্রামের দেড়-দুই হাজার মানুষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সরাইল-নাসিরনগর- লাখাই আঞ্চলিক সড়কের জিলুকদার পাড়া এলাকায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রথমে সরাইল-নাসিরনগর-আঞ্চলিক মহাসড়কের উপরে ও পরে পাশের খালি মাঠে সংঘর্ষে ছড়িয়ে পড়ে। সরাইল থানা পুলিশ সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে জেলা থেকে দুই প্লাটুন অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ১২৭ রাউন্ড রাবার বুলেট ও ২৫ রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কমপক্ষে অর্ধশতাধিক লোক আহত হন। আহতদের সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা সদর হাসপাতাল ও বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হয়।
সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ রূপক কুমার সাহা বলেন, পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।