চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক উন্নয়নে তরুণ রাজনীতিবিদদের চীন সফর

 
চীন দূতাবাস, কমিউনিস্ট পাটি অব চায়নার (সিপিসি) আন্তর্জাতিক বিভাগের কেন্দ্রীয় কমিটি ও সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) অংশীদারিত্বে চীন সফর করলেন বাংলাদেশের যুব রাজনীতিবিদরা ১২-১৭ জুন। চীন ও বাংলাদেশের আগামী প্রজন্মের রাজনীতিবিদদের সম্পর্ক দৃঢ় করতে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। সেই সঙ্গে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে উষ্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
 
সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদকে প্রধান করে আটজন সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের আরো সাতজনের একটি দল এই লক্ষ্যে চীন সফর করে। এই সফরে সিআরআই-এর এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর সাব্বির বিন শামস প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে দলটির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
 
সফরের অংশ হিসেবে চীন সরকার ও সিপিসি'র কর্মকর্তা ও তরুণ নেতৃত্বের সঙ্গে বিভিন্ন মিটিং ও সেমিনারের মাধ্যমে বাংলাদেশের তরুণ নেতারা তাদের চিন্তা চেতনা পরিবেশন করে এবং তাদের থেকেও চীনের ভবিষ্যৎ সম্পর্কিত বিষয়ে ধারণা লাভ করে। এ সময় তারা চীনের কিনমিং, তিয়ানজিন ও বেইজিংয়ে যায়। সেখানে পিপাল'স কংগ্রেসের ইউনান প্রদেশের কার্যকর কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ওয়াং শুফেন এবং প্রদেশটিতে থাকা সিপিসির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ, কুনমিংয়ের দলীয় স্কুল, নানকাই বিশ্ববিদ্যালয়, কাউন্সিলর এবং চীন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরো বেশ কিছু কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাত করা হয়। এ ছাড়াও সিপিস কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মি. জি লুন উপস্থিত ছিলেন।
 
IMG0
 
চীনে এই সফরে নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক ও সিআরআই-এর পলিসি অ্যানালিস্ট ব্যারিস্টার শাহ আলী ফরহাদ বলেন, এই সফরে চীনের রাজনীতি ও সমাজ সম্পর্কে বেশ ভাল ধারণা পেয়েছি আমরা। মুখোমুখি হয়ে যোগাযোগ সুবিধা সৃষ্টির মাধ্যমে চীন ও বাংলাদেশের সম্পর্ককে আরো দৃঢ় করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আগামী ২৪-৩০ অক্টোবর চীনে অনুষ্ঠিতব্য একটি যুব ফোরাম ও যুব সম্মেলনে অংশ নেয়ার জন্য বাংলাদেশের তরুণ নেতাদের একটি দলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে তারা।
 
সিআরআই-এর সহকারী সমন্বয়ক ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক তন্ময় আহমেদ বলেন, মিটিংগুলোতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রশংসা করেছে চীনের কর্মকর্তারা। মি. জি লুনের বক্তব্যকে উদ্বৃত্ত করে তন্ময় বলেন, বিশ্ব অর্থনীতি যখন মন্দার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদৃষ্টির কারণে বাংলাদেশের নিয়মিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করছে।
 
সফরে বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক, আঞ্চলিক যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, কৃষি, পর্যটন, পরস্পর যোগাযোগ, সংস্কৃতি, খেলাধুলা এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।
 
সফর দলটিতে কাজী নাবিল আহমেদের নেতৃত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন- নাহিম রাজ্জাক, ফরহাদ হোসেন, আবুল কালাম, আহসানুল হক চৌধুরী, রাজি মোহাম্মদ ফখরুল, ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পি, আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী, নূরজাহান বেগম। এ ছাড়াও দলীয় নেতৃবৃন্দ ও কর্মীদের মধ্যে ছিলেন- আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, শাহ আলী ফরহাদ, তারিক শমি, তন্ময় আহমেদ, ফারজানা বেগম, এইচ এম জাহিদুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগের যুগ্ম-সম্পাদক কোহেলি কুদ্দুস মুক্তি।