গাজীপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, আহত ২০

শতভাগ ঈদ বোনাস পরিশোধ ও ৫০০ টাকা হাজিরা বোনাসের দাবিতে গাজীপুরে কোজিমা লিরিক ফ্যাশন লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল, ভাঙচুর ও সড়ক অবরোধ করেছে।
 
এ সময় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে তিন শ্রমিক গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড সর্টগানের গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। মঙ্গলবার দুপুরে গাজীপুর মহানগরীর নলজানী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
 
জানা গেছে, ওই কারখানার শ্রমিকরা ৭০ ভাগ ঈদ বোনাসের স্থলে শতভাগ ঈদ বোনাস এবং ৩০০ টাকার স্থলে ৫০০ টাকা হাজিরা বোনাসের দাবিতে মঙ্গলবার দুপুরে শ্রমিকরা কারখানা গেটে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় তারা কারখানার সামনে ঢাকা-গাজীপুর সড়ক অবরোধ সৃষ্টি করে। এতে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
 
খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ ও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সড়কের ওপর থেকে অবরোধকারীদের সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। এ সময় শ্রমিকরা পুলিশের ওপর ইটপাটকেল ছুঁড়লে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এতে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় উত্তেজিত শ্রমিকরা কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে। শ্রমিকরা কারখানার ভিতরে হামলা চালিয়ে মেশিনপত্র বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করে। এক পর্যায়ে পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড সর্টগানের গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় পুলিশসহ অন্তত ২০ জন শ্রমিক আহত হন।
 
কারখানার ম্যানেজার অপূর্ব লাল হাওলাদার জানান, ইতোপূর্বে রমজানের ঈদে শ্রমিকদের ৭০ ভাগ বোনাস পরিশোধ করা হলেও এবার শ্রমিকরা তা মেনে নেয়নি। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ আরো ১০ ভাগ বাড়িয়ে এবারের রমজানের ঈদ বোনাস ৮০ ভাগ করার ঘোষণা দেয়ার পরও মঙ্গলবার শ্রমিকরা অযৌক্তিভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
 
এ ব্যাপারে জয়দেবপুর থানার ওসি খন্দকার রেজাউল হাসান রেজা জানান, শ্রমিকরা তাদের দাবি দাওয়া নিয়ে সড়ক অবরোধ করে। পুলিশ তাদের সরাতে গেলে তারা পুলিশের ওপর ইটপাটকেল  নিক্ষেপ করে। এ সময় পুলিশ তাদের ধাওয়া দেয় এবং কয়েক রাউন্ড টিয়ারসেল ও ফাঁকা গুলি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।