পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলার চরাঞ্চলের মাটি পলিযুক্ত বেলে-দোঁআশ হওয়ায় চলতি মৌসুমে বাদামের বাম্পার ফলন হয়েছে। পদ্মা ও যমুনা চরের ২৭ হাজার একর জমিতে বাদাম আবাদ হয়েছে।
পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি সমপ্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বাদাম মৌসুমে পাবনা জেলার মুরাদপুর, বরাংগাল, ঘোড়জান, চরপেচাকোলা, চরযমুনা, বাইরচর, শ্রীপুর, খিদ্রদাশুরিয়া, চরআড়ালিয়া, সাঁড়াশিয়া, চরসাফুলা, চরনাগদা, চরঢালা, চরকল্যাণপুর, পূর্বশ্রীকণ্ঠদিয়া ও পদ্মারচর, পাবনা সদর উপজেলার আশুতোষপুর, কোমরপুর, চরবলরামপুর, চরভাড়ারা, সাদিপুর, সুদিরাজপুর এবং সিরাজগঞ্জ জেলার সোলজানারচর, দইকান্দিরচর, চরআগবাঙলা, শিমুলকান্দি, বারোপাখিয়ারচর, ধীতপুর, কুশিরচর, ভুমোরিয়া, মেঘাইরচর, খাসকাউলিয়া, মিনারদিয়াচর, ওমরপুরচর, পয়লারচর, বানতিয়ারচর, মীরকুটিয়ারচর,চাঁমতারা, শিংঘুলি, নয়াহাটা বরংগাইল, ভারদিঘুলিয়া, বীরপুর, পীরপুর, চালাকপাড়াসহ ছোট-বড় ১২৫টি চরের ২৫ হাজার একর জমিতে বাদাম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। অনুকূল আবহাওয়া ও বাদামের বাজার দর ভালো থাকায় কৃষকরা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় দুই হাজার একর বেশি জমিতে বাদাম চাষ করেছেন।
বেড়া উপজেলার নাকালিয়া ও নগরবাড়িতে চরাঞ্চলের বাদামকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে বিক্রির পাইকারী মোকাম এবং বাদাম কারখানা। প্রতিদিন চরের কৃষকরা নৌকায় করে নাকালিয়া ও নগরবাড়ি মোকামে বাদাম বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন। বাদাম বিক্রি করে তারা সংসারের নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রী কিনে নিয়ে যান। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বাদাম ব্যবসায়ীরা বাদাম কেনার জন্য এই মোকামে আসছেন। মোকামে ২০-২২টি আড়ত গড়ে উঠেছে। ব্যবসায়ীরা স্থানীয় আড়তদারের মাধ্যমে বাদাম কিনে এখান থেকে নিজ নিজ গন্তব্যে নিয়ে যান। আবার কোনো কোনো বড় ব্যবসায়ী বাদাম কিনে মেশিনে খোসা ছাড়িয়ে সরবরাহ করছেন দেশের বড় বড় কারখানায়।
পাবনা সদর উপজেলার আশুতোষপুর চরের কৃষক মহাম্মদ আলী জানান, তিনি এ বছর পাঁচ বিঘা জমিতে বাদাম আবাদ করেছিলেন। বীজ রোপণের পর বৃষ্টি হওয়ায় এ বছর বাদামের বাম্পার ফলন পেয়েছেন। অন্যান্য ফসলের চেয়ে বাদাম আবাদে পরিশ্রম ও খরচ অনেক কম হওয়ায় লাভ পেয়েছেন বেশি।
সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার মিনারদিয়া চরের কৃষক আহেদ আলী প্রামানিক জানান, তিনি এ বছর দুই একর জমিতে বাদাম আবাদ করেছিলেন। ছয় বিঘা জমির বাদাম তুলে পাওয়া গেছে ৯৯ মণ। রোদে শুকানোর পর পেয়েছেন মোট ৭০ মণ। শুধু কৃষক আহেদ আলী নয় ফলজানার চরের কৃষক আকবর আলী, সোনা মিয়া, চরঢালার আক্কাছ আলী, মীরকুটিয়া চরের রায়হান, আজিবর শ্রীপুর চরের রতন দাস, হোসেন আলী, ভারদিঘুলিয়া চরের শাহনুর মিয়াসহ দু’টি জেলার বিভিন্ন চরের শতাধিক কৃষক জানান, এ বছর বাদামের ফলন ভালো হয়েছে।