দেবডাঙ্গা ফিসপাস রেগুলেটর প্রকল্প অকার্যকর, হুমকিতে মত্স্য সম্পদ

রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকির অভাবে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সারিয়াকান্দির পার দেবডাঙ্গা ফিসপাস রেগুলেটর প্রকল্পটি অকার্যকর হয়ে পড়েছে। এতে যমুনার পানির সঙ্গে মাছের রেণু পোনা বাঁধ অভ্যন্তরের নদী-নালা ও খাল-বিলে প্রবেশ করতে না পারায় জলাশয়গুলোতে  মত্স্য উত্পাদন হ্রাস পাচ্ছে।
 
পাহাড়ে উত্পত্তি এবং সে াত প্রবাহিত নদী হওয়ায় যমুনায় প্রাকৃতিকভাবে প্রচুর পরিমাণ মাছের মানসম্পন্ন রেণু পোনা উত্পন্ন হয়। বর্ষাকালে যমুনায় পানি বেড়ে গেলে প্রচুর পরিমাণ রেণু পোনা উজান থেকে সে াতের সঙ্গে ভেসে আসে। এ সময় ফিসপাস রেগুলেটরের গেট খুলে দিলে যমুনার পানির সঙ্গে রেণু পোনা বাঁধ অভ্যন্তরে বাঙালি নদীসহ বিভিন্ন খাল-বিল ও জলাশয়ে প্রবেশ করে এবং মত্স্য সম্পদ বৃদ্ধি পেতে থাকে।
 
মত্স্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জুন থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত মাছের প্রজনন সময়। এ সময় যমুনায় বিপুল পরিমাণ রেণু পোনা উত্পন্ন হয়ে থাকে। এই সময় বগুড়া, গাইবান্ধা ও সিরাজগঞ্জ জেলার নদী পাড়ের জেলেরা সাবার (রেণু পোনা আহরণের জন্য বিশেষভাবে নির্মিত জাল)  দিয়ে যমুনা নদী থেকে রেণু পোনা আহরণ করে বিভিন্ন বাজার ও মোকামে বিক্রি করে। আহরিত রেণু পোনা পরিবহনের সময় বিপুল পরিমাণ পোনা মারা যায়। এতে মত্স্য সম্পদের ক্ষতি হচ্ছে। কিন্তু ফিসপাস রেগুলেটর দিয়ে রেণু পোনা পার হওয়ার সময় মরে না। ফলে বাঁধ অভ্যন্তরের জলাশয়গুলোতে মত্স্য সম্পদের ব্যাপক উন্নয়ন ঘটে। পার দেবডাঙ্গা ফিসপাস রেগুলেটর চালু হওয়ার পর থেকে বাঙালি নদীসহ বিভিন্ন খাল-বিলে দেশিয় প্রজাতির মাছ রুই, মৃগেল, কাতলা, কালিবাউশ, আইড়, বাইন, বোয়াল, রাখলা, পাবদাসহ অন্যান্য মত্স্য সম্পদ বেড়ে যায়। ফিসপাসের কারণে মত্স্য সম্পদ বৃদ্ধি পাওয়ায় বাঙালি নদী পাড়ের ২৫টি গ্রামের মানুষকে নিয়ে কমিটি গঠন করে মত্স্য বিভাগ। ওই কমিটির মাধ্যমে বাঙালি নদীর কাটাখালী ও বরুরবাড়ি পয়েন্টে মত্স্য অভয়াশ্রম গড়ে তোলা হয়। কিন্তু দুই বছর যাবত্ ফিসপাস রেগুলেটরের সামনে পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়ায় যমুনার পানি প্রবাহ ফিসপাস দিয়ে প্রবাহিত হয় না। ফলে মাছের রেণু পোনা বাঙালি নদীতে প্রবেশ করতে পারে না বলে মত্স্য সম্পদ হ্রাস পাচ্ছে।  
 
বাঁধ অভ্যন্তরে মত্স্য সম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে ২০০০ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে পার দেবডাঙ্গা নামক স্থানে তিন ভ্যান্টের এ ফিসপাস রেগুলেটর প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। এটা দেশের দ্বিতীয় এবং বৃহত্ ফিসপাস রেগুলেটর প্রকল্প।
 
সারিয়াকান্দি উপজেলা মত্স্য অফিসার মাহফুজুর রহমান বলেন, মত্স্য সম্পদ উন্নয়নে  ফিসপাস রেগুলেটর সচল করতে এর সামনে খাল কেটে যমুনা নদীর সঙ্গে সংযোগ করে দেয়ার জন্য পাউবোর কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।  পাউবোর বগুড়ার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বাবুল চন্দ্র শীল বলেন, ফান্ডের অভাবে ফিসপাস রেগুলেটর সচল করতে পারছি না।