হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার সীমান্তবর্তী সাটিয়াজুরী বাজারে কাঠাঁল বিক্রিকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর মাঝে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে মহিলাসহ অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়েছেন। আহতদের হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল, বাহুবল ও চুনারুঘাট হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। বুধবার বেলা একটায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, ওই উপজেলার রাজেন্দ্রপুর গ্রামের কবির মিয়া ওরফে কালা মিয়া সাটিয়াজুরী বাজারে কাঠাঁল বিক্রি করতে যায়। কাঠাঁল বিক্রির মূল্য কষাকষি নিয়ে একই উপজেলার বারআউলিয়া গ্রামের ওয়াহিদ মিয়ার সাথে বাকবিতন্ডা হয়। বাজারে থাকা ব্যবসায়ীরা তাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সমাধান করে দেন। এতে খুশি হতে না পেরে বারআউলিয়া গ্রামের ওয়াহিদ মিয়া বিষয়টি গ্রামের লোকজনকে জানান। তারা মঙ্গলবার রাত ৯টায় লাঠিসোটা নিয়ে সাটিয়াজুরী বাজারে এসে রাজেন্দ্রপুর গ্রামের লোকদের খোঁজতে থাকে। এক পর্যায়ে তারা সাটিয়াজুরী বাজারে মধু মিয়ার চা স্টল, আসাদ স্টোর, আতর আলীর পানের দোকান, ইদ্রিস মিয়ার ফার্মেসী, আহাদ মিয়ার দোকান, ওয়াহিদ মিয়ার মুদি দোকানে হামলা ভাংচুর চালায়। এমনকি তারা রাজেন্দ্রপুর গ্রামের মসজিদে তারাবিহর নামাজরত মুসল্লিদের উপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় উভয়পক্ষের মাঝে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। খবর পেয়ে বাহুবল থানা পুলিশ ও স্থানীয় চেয়ারম্যানদের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে রাতেই সালিশ বৈঠক বসানো হয়। বারআউলিয়া গ্রামবাসীর শর্তের মুখে ভেস্তে যায় শালিস বৈঠকও। এক পর্যায়ে সালিশ বৈঠকেও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। উক্ত ঘটনার জের ধরে ফের বুধবার দুপুর ১২টায় বারআউলিয়া গ্রামবাসী মসজিদের মাইকে প্রচার করে চাইরা, দাসপাড়া গ্রামবাসীকে নিয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ সাটিয়াজুরী বাজার রেললাইনে এসে জড়ো হয়। এ সময় তারা রাজেন্দ্রপুর গ্রামবাসীকে ডাকাডাকি শুরু করলে সাটিয়াজুরী ও রাজেন্দ্রপুর গ্রামবাসীও লাঠিসোটা নিয়ে সংঘর্ষের প্রস্তুতি নেয়। একপক্ষ আরেকপক্ষের উপর ঝাপিয়ে পড়লে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের মহিলাসহ অর্ধশতাধিক লোক আহত হন। খবর পেয়ে বাহুবল মডেল থানা পুলিশ ও চুনারুঘাট থানার দাঙ্গা পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
বাহুবল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোল্লা মনির হোসেন জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।