শহরের কালীরবাজারে গতকাল বুধবার সকালে স্বর্ণ নিয়ে এক দোকান মালিককে ফাঁসানোর সময়ে দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। ওই সময়ে দুইজনকে পুলিশের একজন সহকারী উপ পরিদর্শক (এএসআই) সহায়তা করতে গেলে তিনিও স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের রোষানলে পড়েন। অতিরিক্ত পুলিশ এসে এ তিনজনকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় পুলিশের ওই এএসআইকে তাৎক্ষনিক শাস্তিস্বরূপ সদর মডেল থানা থেকে বদলী করে আড়াইহাজারের দুর্গম চরাঞ্চল কালাপাহাড়িয়ায় পাঠানো হয়েছে।
জানা গেছে, লিটন নামের পুলিশের একজন সোর্স বুধবার সকালে নারায়ণগঞ্জ শহরের স্বর্ণ বিকিকিনির অন্যতম এলাকা কালীরবাজার স্বর্ণ পট্টিতে পাণ্ডব রায়ের মালিকানাধীন ‘মা তাঁরা স্বর্ণালয়’ এ যায়। দোকানে গিয়ে লিটন স্বর্ণের একটি ছেড়া চেইন বিক্রি করতে চায়। তখন দোকান মালিক পাণ্ডব রায় ওই সময়ে স্বর্ণের চেইনটি কিনতে অনীহা প্রকাশ করেন। ওই সময়ে লিটন চেইনটি রেখে ২হাজার টাকা দেওয়ার জন্য পাণ্ডব রায়কে চাপ দিতে থাকে। ব্যর্থ হয়ে দোকানের বাইরে আসা মাত্র পুলিশের অপর সোর্স ইকবাল ও নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার সহকারী উপ পরিদর্শক (এএসআই) আশরাফ হোসেন মিলে লিটনকে আটক করে। তখন লিটনকে ওই স্বর্ণের চেইনটি ছিনতাই করা বলে অপবাদ দেয়। একই সঙ্গে পাণ্ডব রায়কে চোরাই স্বর্ণ কেনার অভিযোগে আটক করে। এ ঘটনায় কালীরবাজারের স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা পুলিশের এএসআই আশরাফ সহ দুইজন সোর্স লিটন ও ইকবালকে আটক করে মারধর করে। খবর পেয়ে থানার ওসি আবদুল মালেকের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে।
ভুক্তভোগী ‘মা তাঁরা স্বর্ণালয়’ এর মালিক পাণ্ডব রায় সুবীর বলেন,‘সকালে দোকান খুলে ধর্মীয় কাজ করার সময় এক ব্যক্তি একটি প্যাকেট ক্যাশের উপর রাখে। কিন্তু ওই সময় পুলিশ এসে জিজ্ঞাসা করে স্বর্ণ কিনা। এছাড়াও এর ওজন কতটুকু। তারপর ওজন দিয়ে আটা ২ রতি পাই। কিন্তু তখন পুলিশ চোরাই স্বর্ণ কেনার অভিযোগ করে আমাকে আটক করার সময় ব্যবসায়ীরা বাধা দেয়।’
এদিকে স্বর্ণ ব্যবসায়ী সাজন কর্মকার বলেন,‘এ ঘটনার এক সপ্তাহ আগে শুক্রবার রাতে তপন কর্মকার নামে আমার মামাকে একই অভিযোগে প্রথমে হয়রানি করে। পরবর্তীতে দোকানে অভিযানের নাম করে প্রায় ৮০ ভরি স্বর্ণ জব্দ করে নিয়ে যায়। এখনও জেলখানায় আটক করে রেখেছে। এভাবে ডিবি পুলিশের লোকজন স্বর্ণব্যবসায়ীদের হয়রানি করে। কিছু হলেই স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। যার প্রতিবাদেই বুধবার সকল স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও শ্রমিকেরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে। সদর মডেল থানার ওসি আবদুল মালেক জানান, ঘটনায় প্রাথমিক দোষী থাকায় এএসআই আশরাফকে তাৎক্ষনিক আড়াইহাজারের কালাপাহাড়িয়া থানায় বদলী করা হয়েছে। লিটন ও ইকবালকে থানায় আটক করা হয়েছে। দুইজনের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।