কুমিল্লায় কলেজ ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি’র ৬ সদস্যের একটি দল ফের কুমিল্লা সেনানিবাসে তনুর লাশ উদ্ধারের স্থান পরিদর্শন করেছে। গতকাল বুধবার তারা সেখানে যায়। এছাড়া তনুর বাবা, মা, ভাই ও এক শিক্ষকসহ ৪ জনের সাথে কথা বলেছে সিআইডি ।
এর আগে সকালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থিয়েটারের ২ জন শিল্পী ও ১ জন মিউজিসিয়ানসহ ৩ জনকে সিআইডি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এসময় সিআইডি-কুমিল্লার বিশেষ পুলিশ সুপার ড. নাজমুল করিম খান বলেন, তনুর বাবা কারো দ্বারা হুমকির সম্মুখীন হলে তিনি থানায় জিডি করলে তা আমরা অবশ্যই দেখব। এছাড়া ঘাতকরা যতই দাম্ভিক কিংবা ক্ষমতাসীন হোক না কেন একদিন তারা শাস্তি পাবেই, তাদের শাস্তি অবধারিত।
কুমিল্লা সেনানিবাসের একটি জঙ্গল থেকে গত ২০ মার্চ রাতে তনুর লাশ উদ্ধার করার পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি প্রথমে থানা পুলিশ, পরে ডিবি পুলিশ এবং এরপর ৩০ মার্চ থেকে সিআইডি তদন্তের দায়িত্ব পায়। সিআইডি’র তদন্তকালে দফায় দফায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন, তনুর বাবা-মা, ভাই, স্বজন, চিকিৎসক ও সামরিক-বেসামরিকসহ গতকাল বুধবার পর্যন্ত সত্তরজনের বেশি ব্যক্তিকে বিভিন্ন সময়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
জানতে চাইলে ড. নাজমুল করিম খান গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘তনুর বাবার নিরাপত্তার দায়িত্ব পুলিশের।’ তিনি আরও বলেন, ‘ডিএনএ প্রতিবেদনে প্রাপ্ত ৩ ব্যক্তির শুক্রাণু (বীর্য) নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের মাঝে ইতিমধ্যেই অন্তর্দহন শুরু হয়ে গেছে।’ তিনি বলেন, ‘ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তনুর ঘাতকদের মুখোশ আমরা খুলে দিয়েছি। এ ডিএনএ প্রতিবেদন পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। হত্যাকারীরা যতই দাম্ভিকতা করুক না কেন কিংবা যতই ক্ষমতাসীন হোক না কেন একদিন তাদের শাস্তি পেতেই হবে। তবে আমরা শতভাগ নিশ্চিত হয়েই ঘাতকদের শনাক্তে অগ্রসর হতে চাই। তনুর পরিবারের কাছে অনেক তথ্য আছে, আমরা তাও জানার চেষ্টা করছি।’
এদিকে মামলার বাদী তনুর বাবা ইয়ার হোসেন জানান, ‘যারা তনু হত্যার বিচারের দাবিতে ঘটনার পর থেকে আন্দোলন করে আসছে জিজ্ঞাসাবাদের নামে বার বার তাদেরকেই হয়রানি করা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘আমি যখন সব হারিয়েছি, এখন আর কিছুই হারানোর ভয় নেই, মেয়ে হত্যার বিচার চাইতে গিয়ে কারো হুমকি বা কোনো ভয়-ভীতিতে আমি পিছু হটবো না।’