মহানগরে বড় হওয়া এই শিশুদের অনবদ্য সব চিত্রকর্মতে উঠে এসেছে আবহমান বাংলার চিরসবুজ-সজীব রূপ। শহরে বড় হওয়া এই সব নাগরিক শিশুরা শহুরে জীবন না এঁকে ক্যানভাসে রঙ ছড়ানোর জন্য প্রধানত গ্রামীণ জীবনকেই বেছে নিয়েছে। কচিকাঁচাদের আঁকা এমনই সব চিত্রকর্মগুলো যেন ফিরে যেতে বাধ্য করে শৈশবের সেই দিনগুলোতে। মনের অজান্তেই মনে আসে-আহারে! প্রাণের শৈশব! কত যে তুলেছি বিলের মাঝের শাপলা-শালুক! আর এখন পড়ে থাকি যান্ত্রিক এক শহর ঢাকায়! এমনই সব ছবি নিয়ে ‘কাশফুল আর্ট স্কুল’ আয়োজিত ‘আমরা সবাই রাজা’ শীর্ষক স্কুলটির বার্ষিক এই চিত্রপ্রদর্শনী গতকাল শেষ হলো। এ উপলক্ষে পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পুরস্কার পাওয়া ৩৪জন শিশুশিল্পীর আঁকা চিত্রকর্ম নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের জয়নুল গ্যালারি দুই-এ অনুষ্ঠিত হলো- সপ্তাহব্যাপী এক বর্ণাঢ্য চিত্র প্রদর্শনী। এ উপলক্ষে গতকাল বুধবার সকালে চারুকলা অনুষদের খোলা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হলো- সমাপনী আয়োজন।
আয়োজনের শুরুতেই ছিল প্রদর্শনীতে স্থান পাওয়া ৩৪জন শিশুচিত্রশিল্পীর আঁকা ৪৫টি চিত্রকর্ম থেকে বাছাই করে দশজন খুদেচিত্রশিল্পীর মাঝে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান। আয়োজনে দশজনকে দেওয়া হয় একই মানের সেরা দশটি পুরস্কার। এবারের এ পুরস্কার প্রাপ্তরা হলেন— এঞ্জেলিকা কস্তা, জুলিয়েট ডি ক্রুজ, উনাইস মো. ফাইয়াজ মিল্কী, অরিদ্র দত্ত, নাইম আর রহমান খান, রুবাইয়া মমতাজ, মার্সেল জুপিটার গমেজ, নাইয়ান উর রহমান, তৃজন ম্যাথাও রোজারিও, সাদেকুন আহছান নাহিন।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বরেণ্য চিত্রশিল্পী অধ্যাপক সমরজিত্ রায় চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন ‘কাশফুল’ আর্ট স্কুলের উপদেষ্টা ও চিত্রশিল্পী কাজী মোজাম্মেল হোসেন এবং স্কুলের পরিচালক নিপা গমেজ।
পুরস্কার প্রদান শেষে প্রধান অতিথি অধ্যাপক সমরজিত্ রায় চৌধুরী বলেন, ছোট্ট শিশুরা যে এত সুন্দর ছবি আঁকতে পারে, তা চোখে না দেখলে বুঝা যাবে না। সত্যিই আমাদের এই স্কুলের শিশুশিক্ষার্থীদের আঁকা এ সব ছবি মুগ্ধ করেছে। আনন্দ দিয়েছে। এই প্রদর্শনীতে যে সব শিশুরা অংশ নিয়েছে তাদের প্রত্যেকের কাজ এত সুন্দর দেখলে নয়ন জুড়িয়ে যায়।
চিত্রশিল্পী কাজী মোজাম্মেল হোসেন বলেন, এ প্রদর্শনীতে আমরা চার পুরুষ একত্রিত হয়েছি—এটা আনন্দের কথা। ছোট্টশিল্পীদের হাসিমুখ আমাকে খুব আনন্দ দিয়েছে। তিনি শিশুদের উদ্দেশে বলেন, তোমরা ছবি আঁকা চালিয়ে যাবে। একদিন বড় শিল্পী হবে।