গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচে ইউরো জোনের অন্যতম সেরা দুই দলকে হারিয়ে ফেভারিটের তকমা পাওয়া ইতালি হেরে গেল রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ডের কাছে। এই ম্যাচে জয় নিয়ে নক আউট পর্বের টিকেট পেল আয়ারল্যান্ড। অন্যদিকে 'ই' গ্রুপের অন্য ম্যাচে একমাত্র গোলে সুইডেনকে হারিয়ে শেষে ষোলোতে উঠেছে ফিফা র্যাংকিং অনুসারে ইউরোপের সেরা দল বেলজিয়াম।
ফ্রান্সের লিলে বুধবার রাতে ম্যাচের দশম মিনিটে গতবারের রানার্সআপদের চমকে দিতে বসেছিল আয়ারল্যান্ড। ২৫ গজ দূর থেকে মিডফিল্ডার জেফ হেনড্রিকের শট পোস্টের পাশ দিয়ে বাইরে চলে গেলে বেঁচে যায় ইতালি। ২১তম মিনিটে আবার ইতালির রক্ষণে আইরিশদের হানা; এ যাত্রায় ফরোয়ার্ড ড্যারিল মার্ফির শট কোনোমতে ঠেকান জানলুইজি বুফানের পরিবর্তে নামা সালভাতোরে সিরিগু।
বিরতির কিছু আগে উল্লেখযোগ্য প্রথম আক্রমণ করে ইতালি। ২৫ গজ দূর থেকে চিরো ইম্মোবিলের শট প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়ের পায়ে লেগে দিক পাল্টে বাইরে চলে যায়।
প্রথমার্ধে অগোছালো ফুটবল খেলা ইতালিকে দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে অনেকটাই ছন্দে দেখা যায়। ৫৩তম মিনিটে গোলও পেয়ে যেতে পারতো তারা; কিন্তু মিডফিল্ডার মাত্তিয়া দে সিলিওর ডি বক্সে বাড়ানো বলে সিমোনে জাজার করা ভলি ক্রসবারের একটু উপর দিয়ে চলে যায়। ৭৭তম মিনিটে বদলি নামা লরেন্সো ইনসিনিয়ের শট পোস্টে লাগলে আইরিশদের পরের রাউন্ডে ওঠার আশা বেঁচে থাকে।
৮৪তম মিনিটে গোলরক্ষককে একা পেয়েও বল জালে জড়াতে ব্যর্থ হন বদলি নামা নরিচ সিটির মিডফিল্ডার ওয়েস হুলাহান। তবে পরের মিনিটে তার বাড়ানো ক্রসে হেডে জয়সূচক গোল করেন তারই ক্লাব সতীর্থ রবি ব্র্যাডি।
সুইডেনের বিপেক্ষ বেলজিয়ামের জয়ের নায়ক রাদজা নাইনগোলান। ৮৪তম মিনিটে ডি-বক্সের অনেক বাইরে থেকে জোরালো শটে গোল করে বেলজিয়ামকে গ্রুপ রানার্সআপ করেন এএস রোমার এই মিডফিল্ডার।
শেষ ষোলোতে উঠতে না পারায় এবারের ইউরো থেকে শূন্য হাতে ফেরার হতাশা নিয়েই শেষ হলো সুইডেনের অধিনায়ক ইব্রাহিমোভিচের আন্তর্জাতিক ফুটবলের পথচলা। বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচের আগেই ইউরো শেষে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন এই ফরোয়ার্ড।
আগেই গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করা ইতালির পয়েন্ট ৬। বেলজিয়ামের পয়েন্টও ৬; তবে মুখোমুখি লড়াইয়ে পিছিয়ে ‘ই’ গ্রুপের রানার্সআপ হয়েছে তারা।
৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ পর্যায়ের সেরা চারটি তৃতীয় স্থানের দলের একটি হয়ে নকআউট পর্বে উঠল আয়ারল্যান্ড। ছিটকে পড়া সুইডেনের পয়েন্ট ১।