কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার চাঁদগ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ক্ষমতাসীন জোটের দুই দল আওয়ামী লীগ ও জাসদ সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে একজন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ একজনকে আটক করেছে।
শুক্রবার সকালে ও দুপুরে পৃথক এ সংঘর্ষ হয়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে ৪০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গ্রামবাসীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, পূর্ব বিরোধের জের ধরে সকালে জাসদ সমর্থিত মিনাজুর রহমানের এবং আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাবেক ইউপি সদস্য এনামুল হকের লোকজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে উভয়পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয়পক্ষে অন্তত ৭ জন আহত হন। এদের মধ্যে জাসদ সমর্থিত সাইফুল প্রামানিক (২৯) ও আফিল মালিথা (৩২) এবং আওয়ামী লীগ সমর্থিত হাফিজুর রহমান (৩৫) ও সোহাগ হোসেনকে (২৬) কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে সোহাগের বাম পায়ের উরুতে গুলি লেগেছে। বাকিরা গ্রেফতার এড়াতে পৃথক স্থানে চিকিত্সা নিয়েছেন। হাসপাতালে চিকিত্সাধীন সোহাগ হোসেন বলেন, ঘটনার সময় ৪০ ফুট দূর থেকে জাসদের কয়েকজন লোক তার দিকে গুলি ছোড়ে। এ সময় তিনি তাদের চিনতে পেরেছেন। পরে গুলির আঘাতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
তবে জাসদের ভেড়ামারা শাখার সাধারণ সম্পাদক আনসার আলী দাবি করেন, ‘ওই গ্রামে ৬৭ বছর ধরে বংশগত দ্বন্দ্বে মারামারি হয়ে আসছে। এর মধ্যে উভয় পক্ষেই আওয়ামী লীগ, জাসদ ও বিএনপির লোকজন আছে। সেখানে বংশগত দ্বন্দ্ব। এখানে আওয়ামী লীগ ও জাসদের মধ্যে কোনো মারামারি হয়নি।'
অন্যদিকে ভেড়ামারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আকতারুজ্জামান মিঠু বলেন, ‘ওই গ্রামে বেশ কয়েকবার আওয়ামী লীগ ও জাসদের মধ্যে সংর্ঘষ হয়েছে। এতে আওয়ামী লীগের কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছিল। বিষয়টি পুলিশ দেখছে। তারা যা ভালো মনে করেন সেটাই করবে।'
ভেড়ামারা থানার ওসি নূর হোসেন খন্দকার বলেন, আপাতত পরিস্থিতি শান্ত। চাঁদগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। ১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ৬ নভেম্বর চাঁদগ্রামে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের হামলায় বাবুল ড্রাইভার নামে এক জাসদকর্মী নিহত হওয়ার পর সেখানে দু'পক্ষের লোকজনের মধ্যে বেশ কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়েছে। সর্বশেষ গত সোমবার দু'পক্ষের সংঘর্ষে ৮ জন আহত হন।